জুলাইয়ের আন্দোলন ১৭ বছরের সংগ্রামের অংশ: আবদুস সালাম আজাদ

প্রেসবাংলা ২৪. কম : নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে স্মরণ সভা করেছে জেলা বিএনপি। সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা জুলাইয়ের আন্দোলন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন, দলীয় নেতাকর্মীদের ত্যাগ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শহরের নতুন কোর্ট এলাকায় আয়োজিত এ স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুস সালাম আজাদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল বিদেশি ষড়যন্ত্রের ওপর ভর করে এগোচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম রয়েছে। তার দাবি, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দীর্ঘ সময় রাজপথে ছিল।
আবদুস সালাম আজাদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার যে অবস্থান তিনি নিয়েছিলেন, সে কারণে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থান করেও বিএনপির চেয়ারম্যান দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হওয়ার পরও আন্দোলন দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে শুধু কয়েক দিনের আন্দোলন হিসেবে দেখলে পুরো ইতিহাস সামনে আসবে না। তার দাবি, এটি ছিল স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে। ওই আন্দোলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলের নেতাকর্মীরাও মাঠে ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের শাওন ও আড়াইহাজারের সিদ্দিকসহ অনেক নেতাকর্মী আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন।
নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, জুলাইকে সামনে রেখে আগের ১৭ বছরের আন্দোলনের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা উচিত নয়। বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেককে জেলে যেতে হয়েছে, অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব ত্যাগও রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গতকাল ফেসবুকে দেখি শিবিরের হাতে ছাত্রদল মার খায়। বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাস না যেতেই কেন শিবিরের হাতে দলের নেতাকর্মীরা মার খাবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী দল কোনো আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হঠাৎ করে ভেসে ওঠেনি। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে অংশ নিলেও মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব এককভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেননি। একইভাবে ২০২৪ সালের আন্দোলনেও বিএনপি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করলেও দলটি এককভাবে এর কৃতিত্ব দাবি করে না।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হুমকি বা ভয় দেখানোর রাজনীতিতে বিএনপি আতঙ্কিত নয়। অতীতে তারা আন্দোলন করেছে এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও রাজপথে থাকবে।
স্মরণ সভায় নেতারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করেন এবং আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে নিহত, আহত ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের কথাও তুলে ধরা হয়।
এসময় সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।











