মামলার জবাব মামলা দিয়ে দিবো: এড. খোকন সাহা

নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪.কম: এ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, অনেকেই আপনারা উত্তপ্ত হয়ে আছেন আমার বিরুদ্ধে মামলা হলো কেন? আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই শহরে গত ৪৫ বছর যাবত রাজনীতি করি। ২৫ বছর যাবত মাননীয় নেত্রী আমাকে সাধারণ সম্পাদক পদে এনেছেন। নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে আমি আছি। আমি এই ২৫ বছরে অনেক টাকা কামাতে পারতাম, সেইদিকে তাকাই নাই। মামলা হইছে মামলা হোক না, মামলার কাগজ আমি এখনও পাই নাই। আপনারা উত্তপ্ত হবেন না। গতকাল মিছিল-মিটিং করতে আমার কাছে প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী এসেছে। আমি পরিষ্কার বলেছি, মামলা কেউ করতেই পারে। মামলার জবাব মামলা দিয়ে দিবো। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমি প্রমাণ করে দিবো আমার বক্তব্য সত্য না মিথ্যা।
মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারী) নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির মৃধা’র ৫৯ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে শহরের শায়েস্তা খাঁন রোডস্থ পুরাণ কোর্ট প্রাঙ্গনে এ এসব কথা বলেন। এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ও কেক উপহার দেন হুমায়ুন মৃধাকে।
কেক কাটার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, হঠাৎ শুনি হুমায়ুন মৃধার জন্মদিন, বললাম বন্দরে নয় শহরে পালন করবো আপনার জন্মদিন। ১১ আগস্ট আমার জন্মদিন, ৭৬ সালের পর আমি আমার জন্মদিন পালন করি নাই। ত্যাগি কর্মী হিসেবে তাকে শুভেচ্ছা জানালাম। আমি ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কর্মী। শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ৭৫ সালের পরে আমরা ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেছিলাম, সেই সময়ে হুমায়ুন কবির মৃধা ছিলেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি জিউস পুকুর নিয়ে সেদিন বলেছিলাম যে আমি, এইদেশে ২৫ বছর যাবত আমি সেক্রেটারি। এদেশের মুসলমান ভাইয়েরা আমাকে সেক্রেটারি করেছে, কোন হিন্দু করে নাই। হিন্দুদের সম্পত্তি রক্ষার জন্য আমি ২ ঘন্টা সময় দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, আমি মুসলমান ভাইদের ওয়াকফ্-মাদ্রাসার সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য ২৪ ঘন্টা সময় দিবো। তাদের সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে বিনা পয়সায় কাজ করবো।
এ্যাডভোকেট খোকন সাহা আরও বলেন, মামলা হইছে কাগজ পেলে মামলা আমি ফেইস করবো। আমি বলতে চাই একটা কথা, আওয়ামী লীগের ভোটে নির্বাচিত হবেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবেন না এটা আমি হতে দিবো না। হুমায়ুন ২০১৬ সালে অনেক পরিশ্রম করেছে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে, হুমায়ুনকে চিনেন না। আমি স্বার্থের জন্য রাজনীতি করি না। আমি কোন কন্ট্রেকটার, সিন্ডিকেট পালি না। কোন কমিশন খাই না। আমি পরিষ্কারভাবে বলবো, আমার নেতা শামসুজ্জোহা সততার কিংবদন্তি। আমি তার কর্মী। আমার কর্মী হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, চাচা বলে ডাকতাম। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু যখন বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুর্নগঠনে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, আমার নেতা শামসুজ্জোহা সাহেব অনেক লাইসেন্স দিয়েছিলেন। কিন্তু নেতার মৃত্যুর আগে একটা বাড়ি রেখে গিয়েছিলেন, সেটাও নিলামে চলে গিয়েছিল। বাড়িটাও তার না, উনার পিতা খান সাহেব ওসমান আলী।
তিনি আরও বলেন, আমি সৎ মানুষ। আমি এখনও ঘুমালে চাঁদ দেখি। আমার টাকা নেই, পয়সা নেই। ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর অনেক আওয়ামী লীগ নেতাদের জন্য বঙ্গবন্ধুর সরকারের বদনাম হয়েছিল। অনেকে লুট করেছে, নারাণয়গঞ্জে ব্যতিক্রম নয়। মুখ খোলার চেষ্টা করবেন না, বলে দিবো ১৯৭২ সালে কারা লুট করে পালিয়েছিলেন। কারা হিন্দুদের বাড়ি দখল করেছে, নাম মাত্র মূল্যে কিনে তাদের ভারতে পাঠিয়েছেন। অনেকে বলেছেন, খোকন সাহা মেয়র প্রার্থী, খোকনকে ঘায়েল করতে হবে। আমি মেয়র প্রার্থী না, চাওয়া পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। অনেককে রাজনীতিতে এনেছি। আজকে যারা বড় বড় কথা বলেন, তাদের বলতে চাই ২০০১ সালের পর মনোনয়নের জন্য খোকন সাহা কি কাজ করে? সব বলবো। বেশি উত্তেজিত করার চেষ্টা করবেন না। আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ, শান্তিতে থাকতে চাই। আমি নির্বাচন করার জন্য এখানে আসি নাই, আমি এসেছি সত্যের উন্মেষ ঘটানোর জন্য। আমি এসেছি সততার সাথে রাজনীতি করতে। আমি আগামীতে বলবো কারা সৎ রাজনীতি করেছেন। কাদের ছত্রছায়ায় নারায়ণগঞ্জে লুট হয়েছিল, স্বাক্ষ্য প্রমাণ নিয়ে সেটা বলবো।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, মারবেন? মেরে ফেলেন, কোন ভয় নেই। বস্তুনিষ্ঠভাবে রাজনীতি করি। হিরা মহল থেকে আমার রাজনীতি শুরু, সেখানকার ইট খুলতে চান? হিরা মহলের রাজনীতি করতে গিয়ে মৃত্যু হলেও আমার আপত্তি নেই। বেশি খোঁচাবেন না, চুলকাবেন না।
মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির মৃধা বলেন, ৭৫ সালের পর আমরা যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি সক্রিয় হয়ে ছাত্রলীগে অংশগ্রহণ করি, যারা শামীম ওসমানের নেতৃত্বে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেছি, ২৫ বছর যাবত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে খোকন সাহা। যখনই আমরা মামলার শিকার হয়েছি তখনই আমাদের সাহায্য করেছেন খোকন সাহা। আমার মতো ছোট নেতাকে মূল্যায়ন করে, এটা আমার জন্য সর্বোচ্চ পাওয়া।
এসময় বন্দরের ৯ টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।











