শরীফ হত্যার প্রতিবাদে ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

 

নগর প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪ডটকম: তুচ্ছ একটি ঘটনার কারণে প্রকাশ্য রাস্তায় কুপিয়ে শরীফ হোসেন (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ব্যাবসায়ী শরীফ কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করায় হত্যাকারীদের নাম ‍উল্লেখ করে তাদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে আদর্শনগর এলাকার জনগণ ।

 

২এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টায় আদর্শনগর নিহত শরীফের বাসা থেকে দেওভোগ মাদরাসা শেষ পর্যন্ত বিশাল লাইনে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। এসময় তারা হত্যাকারীদের নাম উল্লেখ করে তাদের ফাঁসির দাবি জানান।

 

করোনা ভাইরাসের কারণে সরাকারি নির্দেশ লকডাউন উপেক্ষা করে এলাকার জনগণ খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমে পরে । তাদের  দাবি অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি দিতে হবে। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় জনসমাগম রোধে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সবধরনের জনসমাগম রোধসহ প্রতিষ্ঠান বন্ধের। সেই বাঁধার মুখেও শরীফ হত্যার দ্বিতীয় দিনে তার এলাকাবাসী রাস্তায় নেমেছে বিচারের দাবিতে।

 

 

উল্লেখ্য গত পরশু (১ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম দেওভোগের অদর্শনগর এলাকায় ছুরিকাঘাত করে ব্যবসায়ী শরীফ হোসেনকে খুন করে। নিহত শরীফ আদর্শনগর এলাকার আলাল মাতবরের ছেলে। ওই এলাকায় বৃষ্টি ইলেকট্রনিক্স নামে টিভি, ফ্রিজ বিক্রয়ের দোকান রয়েছে। নিহতের স্বজনরা জানান, আদর্শনগর এলাকার কিছু লোকজনের সাথে শরীফের পূর্ব শত্রুতা ছিল। ওই শত্রুতার জের ধরেই তাকে দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

 

শরীফের খালাতো ভাই মেহেদী হাসান বলেন, এলাকার শাকিল, লালন নামে কয়েকজনের সাথে শরীফের আগে থেকেই শত্রুতা চলে আসছিল। কয়েক মাস আগে এক ঝামেলায় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা মিলে বিষয়টি মিটমাট করে দিয়েছে। কিন্তু এরপরও তারা বিভিন্ন সময় শরীফে দোকানে এসে নানা অজুহাতে ঝামেলা করতো। স্বজনদের অভিযোগ, শাকিল, লালন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকা- করে বেড়ায়। তারা কাশীপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামীম আহমেদের লোকজন।

 

এলাকাবাসী জানায়, সেখানে শাকিল ও লালনসহ কিশোর গ্যাংয়ের ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল অতর্কিতভাবে শরীফের ওপর হামলা করে। তাকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

 

পুলিশের উদ্ধার করা সিসি টিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের ২৫ থেকে ৩০ জনের সদস্যরা রামদা, ছোঁড়া, লোহার রড ও লাঠিসোঠা নিয়ে রাস্তা দিকে দৌড়ে যাচ্ছে। এর ১ মিনিটের মধ্যেই আশেপাশের লোকজন দৌড়ে ছোটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আবার দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।

 

পরে স্থানীয়রা শরীফকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সদরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহত শরীফের পরিবারের স্বজনরা।

 

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী বলেন, সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে আমরা হত্যাকারীদের শনাক্ত করেছি। এই হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত রয়েছে তাদের সবাইকে আমরা দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম গ্রেফতার অভিযানে বের হয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।