বিনা বেতনে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব টিপু

প্রেসবাংলা ২৪. কম: নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর ছাত্রীদের জন্য বিনা বেতনে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
মঙ্গলবার (২৫শে আগষ্ট) বিকেলে নগরীর আমলাপাড়া এলাকায় নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিবাবকদের সাথে পরামর্শ শেষে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন।
এসময় এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ইতিমধ্যেই স্কুলের রেজাল্ট ভালো করার জন্য আমি ক্লাস নাইন এবং টেনের সকাল ৮টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিনা বেতনে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। এটা স্কুলের পক্ষ থেকে পড়ানো হবে, কোনো ফি নেওয়া হবে না। যেহেতু আমাদের সমাজে সবার সামর্থ্য নাই, যে মেয়েদের বা ছেলেদের জন্য টিচার রেখে বাইরে কোচিং করাবে, এজন্য আমি স্কুলে সাবজেক্ট টিচার এবং গ্রুপ সাবজেক্ট ও জেনারেল সাবজেক্টগুলি পড়ানোর জন্য কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। শুধু এসএসসি পরীক্ষার্থী নয়, নবম শ্রেণিতেও কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়াও আগামী বছর খানেকের মধ্যে আমাদের পশ্চিম দিকের যে বিল্ডিংটা আছে, সেটা ভেঙে ছয় তলা ফাউন্ডেশনের কাজ অতি শীঘ্রই টেন্ডার হবে এবং কাজ শুরু হবে।
আবু আল ইউসুফ খান টিপু আরও বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান, আমলাপাড়ায় অবস্থিত। এই স্কুলটি ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতার পূর্বে এবং পরে বিভিন্ন শিক্ষক-প্রধান শিক্ষকগণ, হেনা দাস, আবদুর রহিমসহ অনেক প্রধান শিক্ষক এটি পরিচালনা করেছেন। এই স্কুলের মেয়েরা কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ আইনজীবী—হয়ে সমাজের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত কিন্তু গত ১৬ বছর বিগত সরকারের আমলে এই স্কুলে শিক্ষকদের দলাদলিতে ঠিকমতো লেখাপড়া না হওয়ায় এবং শিক্ষকদের অমনোযোগিতার কারণে স্কুলের রেজাল্ট গত দুই বছর ভালো হচ্ছিল না। কিন্তু আমি ২০২৬ সালে দায়িত্ব নিয়ে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার পর, স্কুলে অনেক নিয়ম-কানুন চেঞ্জ করেছি স্কুলের স্বার্থে এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধি করার জন্য।
আমি ইতিমধ্যেই স্কুলের প্রতিটি ক্লাসে ক্লাস যেন ঠিকমতো হয়, টিচাররা ফাঁকি না দিতে পারে এবং শিক্ষার্থীরাও যেন ফাঁকি না দিতে পারে, তার জন্য প্রতিটা ক্লাসে সিসি ক্যামেরা, টিচারদের যথাসময়ে আসার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং কলেজের ও স্কুলের মেয়েদের লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির জন্য সাপ্তাহিক পরীক্ষা, পাক্ষিক পরীক্ষা, মাসিক পরীক্ষা এবং প্রথম সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষা তো হবেই। এ বিষয়ে আমাদের হেডমাস্টার আবদুর রাজ্জাক এবং শিক্ষকরাও আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।
এসময় পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলক্ষে দেশ ও জাতিসহ বিশ্ব মুসলিমের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরে ২০২৬ সালের এসএসসি-র কৃতী ৬৮ জন ছাত্রীকে সংবর্ধিত করা হয়।











