বিএনপি সেজে মসজিদ কমিটির সভাপতি হতে চান আওয়ামী দোসর হাসান আলী

প্রেস বাংলা ২৪. কম : ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর খোলস পাল্টে নিজেদের অপরাধ লুকাতে ও নতুন করে আখের গোছাতে একশ্রেণীর সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতার তৎপরতা এখন ওপেন সিক্রেট। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থেকে যারা এলাকায় দাপট দেখিয়েছেন, তারা এখন ভোল পাল্টে রাতারাতি বনে যাচ্ছেন বিরোধী শিবিরের কান্ডারি। এমনই এক সুবিধাবাদী ও রাজনৈতিক রংবদলু নেতার দেখা মিলেছে ফতুল্লার ভোলাইল এলাকায়। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত সেই মুখটিই এখন নব্য বিএনপি সেজে পবিত্র মসজিদ কমিটির শীর্ষ পদ দখল করার পাঁয়তারা করছেন, যা নিয়ে পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বাদ এশা ভোলাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ‘বৃহত্তর ভোলাইল পঞ্চায়েত কমিটি’-এর প্রথম কার্যকরী সভা আহ্বান করা হয়েছে। এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী মাদবরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, হাসান আলী মাদবর মূলত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কট্টর দোসর। তিনি গত দেড় দশকে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফউল্লাহ বাদল এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত নাসিম ওসমানের বিতর্কিত পুত্র আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রাজনীতি করেছেন। তাদের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাসান আলী মাদবর বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবে সম্প্রতি ক্ষমতার পালাবদলকে কাজে লাগিয়ে তিনি খোলস পাল্টে ফেলেছেন। নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এখন তিনি ভোলাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি পদটি বাগিয়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। পবিত্র একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এমন একজন চিহ্নিত রাজনৈতিক সুবিধাবাদীকে বসানোর চক্রান্ত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, “যাঁরা বিগত দিনে স্বৈরাচারের দালালি করে মানুষের ওপর জুলুম করেছেন, তাঁরা এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে মসজিদের মতো পবিত্র জায়গার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছেন। হাসান আলী মাদবরের মতো বিতর্কিত লোক সভাপতি হলে মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হবে।”

ইতিমধ্যেই এই সাধারণ সম্পাদক ও তাঁর সহযোগীদের এমন অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভোলাইলের সর্বস্তরের জনগণ। তড়িঘড়ি করে ডাকা এই কার্যকরী সভাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে নানা সন্দেহ দানা বাঁধছে। অনতিবিলম্বে এই ‘রাজনীতিবিদ’কে মসজিদসহ সামাজিক পঞ্চায়েত কমিটি থেকে বয়কট করার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।