ভেঙে যেতে পারি কিন্তু মচকানোর মানুষ না : এড. সাখাওয়াত

প্রেসবাংলা ২৪. কম : দেওভোগ রাজা লক্ষ্মী – নারায়ণ জিউস আখড়া মন্দিরকে মডেল মন্দির করার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ( ৩০ জুন ) বিকেলে আখড়া মন্দির সংলগ্নে শ্রী শ্রী রাজা লক্ষী নারায়ণ জিউর আখড়া পরিচালনা পরিষদের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।

শ্রী শ্রী রাজা লক্ষী নারায়ণ জিউর আখড়া পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি প্রবীর কুমার সাহার সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.  আবু আল ইউসুফ খান টিপু, লাঙ্গলবন্দ স্লান উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরোজ কুমার সাহা, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শংকর কুমার, কল্যাণ ট্রাস্ট এর সাবেক ট্রাস্টি পরিতোষ কান্তি সাহা, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শিখন সরকার শিপন, লাঙ্গলবন্দ স্লান উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস কর্মকার, শ্রী শ্রী রাজা লক্ষী নারায়ণ আখড়া পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রদীপ দাস, শ্রী শ্রী সাধু নাগ মহাশয় আশ্রম এর সাধারণ সম্পাদক তারাপদ আচর্য্য, মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের তপন ঘোষ,বিশিষ্ট শিল্পপতি ননী গোপাল সাহা, বলদেব জিউর আখড়া মন্দির এর সভাপতি জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক সভাপতি শংকর সাহা, ১৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোকন সাহা সহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, আমি ভেঙে যেতে পারি কিন্তু মচকানোর মানুষ আমি না। আমি চার মাস হলো এই সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পেয়েছি। ইতিপূর্বে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদেরকে ডেকে নিয়ে প্রশিক্ষণের মতো, যেমন শিক্ষক ছাত্রদেরকে যেভাবে শিক্ষা দেয়, ঠিক একইভাবে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন।নারায়ণগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মানুষকে ঠিক কীভাবে সেবা দিতে হবে, নারায়ণগঞ্জ শহরকে কীভাবে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একটা কথা দিয়ে, আপনারা বুঝে রাখবেন যে, গত ২৫-৩০ বছরে নারায়ণগঞ্জের যেই রকম অবস্থা ছিল, এখনও যদি সেই অবস্থা থাকে তাহলে তাঁদের মধ্যে আমরা কোনো পার্থক্য রইলাম না। সুতরাং আমাদেরকে পার্থক্য সৃষ্টি করতে হবে।পার্থক্য সৃষ্টি করতে হবে, এখানে সবার উপরে মানুষ, সবার উপরে মানবধর্ম। সেই মানবধর্মকে আমি লালন করি।

তিনি আরও বলেন, আমি যেহেতু সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে এখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আমার কাছে সমান। আমি যতদিন এই দায়িত্বে আছি, সবার স্বার্থে সমআচরণ করব ইনশাআল্লাহ— আপনাদেরকে এই কথা দিয়ে যাচ্ছি।

আমি এখানে যে আগ্রহ নিয়ে আপনারা এসেছেন, আমি শুধু আপনাদেরকে বলতে চাই যে একসময় বিশ্বব্যাপী একটা কথা ছিল যে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা বিদ্যমান রয়েছে। এই সরকার,  তারেক রহমানের সরকারের মূল লক্ষ্য হলো এই দেশ থেকে সকল ধরনের সাম্প্রদায়িক আত্মাকে নির্মূল করা। আপনারা হয়তো এই নির্বাচনের পরে কিছু ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত যেই উন্নতির পর্যায়ে যাওয়ার কথা, সেখানে আমরা এখনো যেতে পারি নাই আমরা চেষ্টা করছি।

আমরা বলতে চাই, এই নারায়ণগঞ্জে কোনো চাঁদাবাজি থাকবে না। এই নারায়ণগঞ্জে কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়, এই ধরনের আচরণ যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  এখানে কোনো মাদক থাকবে না। এখানে মাদকসেবী থাকবে না। একটা পরিবারের জন্য একটা মাদকসেবী সন্তান কতটুকু যন্ত্রণার, কতটুক কষ্টের কারণ। সুতরাং, আমরা সবাই চেষ্টা করব এই নারায়ণগঞ্জ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, দাদাবাদ এগুলিকে নির্মূল করতে।

তারই অংশ হিসেবে আমি আপনাদের বলতে চাই, আমি যে এলাকায় বড় হয়েছি, জন্ম নিয়েছি এইটা একটা হিন্দু সমৃদ্ধ এলাকা। সেখানে অনেক হিন্দু ভাইদের মুখে শুনেছি যে, অনেক হিন্দু ভাইদের সম্পত্তি অনেকে দখল করেছে। এই সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে কথা কারো জমি জোরপূর্বক দখল করা যাবে না। আর মন্দিরের কথা বলতে এই মন্দিরকে চেষ্টা করব একটি মডেল মন্দির রূপান্তরিত করার জন্য। জিউস পুকুরকেএমন ভাবে সাজাবো যেটা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।