নৌকা এখন পরবাসী!

স্টাফ রির্পোটার, প্রেসবাংলা ২৪.কম: আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু নৌকা প্রতিক নিয়ে। কার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগের এই প্রতিক। নৌকা এখন পরবাসী।
প্রতিক বরাদ্দ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তৃণমূলের কর্মীদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ। স্যোশাল মিডিয়ায় চলছে আলোচনা সমালোচনা। অনেকের মনে প্রশ্ন তাহলে কি এত বছরেও তৈরী হয়নি আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থী? এত বছর ক্ষমতায় থাকার পরও নৌকা তুলে দিতে হচ্ছে অন্য দলের নেতাদের হাতে। তবে অনেকেই এখানে টাকা লেনদেনের বিষয়টি তুলে এনেছেন। টাকায় মিলছে এখন নৌকা প্রতিক!
আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দল মনোনীত চূড়ান্ত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। গত তিন দিনে তৃণমূল নেতারা এসব অভিযোগ আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। লিখিত এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিএনপির নেতা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না এমন ব্যক্তিদের নাম। বঞ্চিত হয়েছে সৎ, আওয়ামী লীগের নিবেদিত ও ত্যাগী নেতারা। আর এমন ব্যক্তিদের নৌকা দেয়ায় স্থানীয়ভাবেও সমালোচিত হচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়ন এর সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু একজন প্রভাশালী বিএনপি নেতা হয়েও সরকার দলীয় নেতাদের সাথে আতাত করে এবার নিজের করে নিলেন নৌকা প্রতিক। সেন্টু নৌকা পাওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছেন।
গত ৬ অক্টোবর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টু নৌকা প্রতীক চেয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেয় কেন্দ্রে। পরবর্তীতে নৌকা প্রতীক পান ও তিনি। আর বিএনপি নেতার নৌকা প্রতীক পাওয়ায় স্থাণীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  তারা বলেন, যার তার হাতেই তুলে দেওয়া যায়। নৌকার সঙ্গে বেইমানী করে টাকায় মিলে মনোনয়ন।
সূত্র জানায়, সেন্টু ২০০৩ সালে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ওই বছরেই অনুষ্ঠিত হওয়া ইউপি নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি৷ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তখন কুতুবপুরে প্রবেশ করতে পারতেন না। ফলে সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হন সেন্টু। ২০০৪ সালে ফতুল্লায় বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে এসে বিশাল শোডাউন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে সেন্টু ধানের শীষ প্রতীক চেয়ে জেলাজুড়ে পোস্টার-ফেস্টুন সাঁটান। পরবর্তীতে সেন্টু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।
অন্যদিকে, আলীরটেক ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মতিউর রহমান। যিনি আওয়ামী লীগের কর্মী দাবী করলেও তার নেই কোন পদ পদবী। এমনকি আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচি পালন বা অংশগ্রহন করেন না তিনি। আলীরটেক বাসী জানান, মতির পরিবার পরিজন অনেকেই জামায়াতের নেতা হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের কোন রাজনীতি সম্পৃক্ত না থাকলেও তিনি নৌকা প্রতীকে গত নির্বাচনে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হয়েছে। জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর সদর মডেল থানা পুলিশ পুলিশের তালিকাভুক্ত আলীরটেক ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মোকতার হোসেন ও ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি ও কুড়েরপাড় হাই স্কুলের শিক্ষক রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে মোকতার হোসেন ডিক্রিরচর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে ও রাজু একই এলাকার আতাউর মুন্সির ছেলে। এ দুইজনের মধ্যে মোকতার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির খালাতো ভাই। অনেকের মনে প্রশ্ন তাহলে কি এত বছরেও তৈরী হয়নি আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থী? দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও নৌকা তুলে দিতে হচ্ছে অন্য দলের নেতাদের হাতে।