আ’লীগ নেতা নূরুজ্জামান সরকারের মৃত্যু, কিছু বিভ্রান্তি ও পরিবারের ভাষ্য

ষ্টাফ রিপোর্টার, প্রেসবাংলা২৪.কম: আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান সরকারের মৃত্যুতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা সংবাদ প্রকাশিত, প্রচারিত হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে এ বিষয়ে পোষ্টও করেছেন। যা পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রচারিত ও প্রকাশিত সংবাদে নানা বিভ্রান্তি ছিল। বিভ্রান্তি ছিল সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে করা পোষ্টেও। যা খুবই দুঃখজনক।
কোথাও লেখা হয়েছে, নূরুজ্জামান সরকার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তথ্যটা সঠিক নয়। নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত এক দৈনিকে লেখা হয়েছে, অর্থাভাবে নূরুজ্জামান সরকারের উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। এ তথ্য সম্পূর্ণ বানোয়াট, মনগড়া ও অসত্য। প্রতিবেদক এমন তথ্য কোথা থেকে আবিষ্কার করেছেন – তা তিনি নিজেই বলতে পারবেন। পরিবারের দায়িত্বশীল কোন ব্যক্তির বক্তব্য ছাড়া গণমাধ্যমে এমন তথ্য প্রচার করা খুবই দুঃখজনক। উদ্ভট এ তথ্যটা নূরুজ্জামান সরকারের পরিবারের প্রতি অসম্মানজনক। প্রকৃতপক্ষে তার চিকিৎসায় কোন ত্রুটি ছিল না। প্রতিবেদনে ‘অর্থের অভাব’ প্রসঙ্গটা প্রতিবেদকের নিজস্ব উদ্ভাবন! বাস্তবতার সাথে যার কোন মিল নেই। তার চিকিৎসার জন্য মোটেও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা ছিল না। সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চেষ্টাই করা হয়েছে। হায়াতে জিন্দেগি শেষ হলে সকল চেষ্টা বিফল হতে বাধ্য। নূরুজ্জামান সরকারের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে।
ওই দৈনিকে প্রচারিত সংবাদের সবচেয়ে দৃষ্টিকটু, হতাশার দিক ছিল- নূরুজ্জামান সরকারের মৃত্যুকে পুঁজি করে আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। সংবাদের একটা অংশে লেখা হয়েছে, ‘তার (পড়ুন আলীরটেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের) উচিত ছিল নূরুজ্জামান সরকারের ভাল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।’ আরেকটা অংশে খেলা হয়েছে, ‘অথচ এই নেতার (পড়ুন নূরুজ্জামান সরকারের) মৃত্যুতে ধনাঢ্য জাকির চেয়ারম্যান কোন ভূমিকাই রাখেননি। অথচ তিনি (জাকির হোসেন চেয়ারম্যান) চাইলে তাকে (নূরুজ্জামান সরকারকে) একটি ভাল হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করাতে পারতেন।’
উদ্ভট এ তথ্যগুলো পড়ে প্রতিবেদকের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের মনে শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে। সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন অসুস্থ নূরুজ্জামান সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কি না- তা তার পরিবার ও জাকির হোসেন নিজে বলতে পারবেন। কিন্তু সংবাদে দুপক্ষের কারোর বক্তব্য নেয়া হয়নি। এতে প্রতীয়মান হয়, এ মৃত্যুকে পুঁজি করে আলীরটেক ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া শুরুর আগেই একটা পক্ষ ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে ছিল প্রতিবেদকের।
বাস্তবতা হচ্ছে, নূরুজ্জামান সরকারের অসুস্থতার সংবাদ পাওয়ার পরই তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। তিনি সকল প্রকার সহায়তা করার জন্য ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেন। বারবার বলেছেন, চিকিৎসায় যাতে কোন কার্পণ্য করা না হয়। নূরুজ্জামান সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে বিনয়ের সাথে জানানো হয়েছে, কোন ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নেই। আমাদের সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে। যদি কোন সহায়তার প্রয়োজন হয়, আমরা জানাব।
প্রিয়জনের মৃত্যু পরবর্তী বিভ্রান্তিকর তথ্যগুলো আমাদের আহত করেছে, অপরদিকে আমরা অভিভূত সর্বস্তরের জনগণের ভালবাসায়। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ ছুটে এসেছিলেন ভালবাসার টানে। যা শোক সন্তপ্ত পরিবারের জন্য ছিল শক্তির উৎস। এ জন্য সকলের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।
বৈরী আবহাওয়া মাথায় নিয়ে যারা দূর-দূরান্ত থেকে এসেও জানাজায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। পরিস্থিতির চাপে আমরা আসলে সবকিছু ভুলে গিয়েছিলাম। এ কারণে তড়িঘড়ি করে জানাজা শুরু করা হয়েছে। এখানে যদি কাউকে দায় নিতে হয়, সেটা অবশ্যই নূরুজ্জামান সরকারের পরিবার নিচ্ছে। অনিচ্ছাকৃত এ ভুলটা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে বিশ্বাস করি।
এখানে আরেকটা বিষয় উল্লেখ করা জরুরি, নূরুজ্জামান সরকার অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। অনেকের ভূমিকা ছিল হাসপাতালের আইসিও’র ব্যবস্থা করার পেছনেও। তাদের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা।
ধন্যবাদান্তে
সদ্য প্রয়াত নূরুজ্জামান সরকারের পরিবার











