ভুলের মাশুল এখন আমাদের দিতে হচ্ছে : আব্দুল আউয়াল

ভুলের মাশুল এখন আমাদের দিতে হচ্ছে : আব্দুল আউয়াল

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি,প্রেসবাংলা২৪.কম: আমাদের বিরুদ্ধে যারা মাঠে কাজ করে আর যারা আমাদের মধ্যে অতি উৎসাহি রয়েছেন। তাদের কারণেই দেশে আগুন, গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। কিন্তু আফসোস হলো, সেই ষড়যন্ত্রের গভীরতা বুঝতে আমরা ভুল করছি। না বুঝার ফলে সেই ভুলের মাশুল এখন আমাদের দিতে হচ্ছে। কওমী মাদ্রাসা গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করোনা উসিলা মাত্র।

সাম্প্রতিক সময়ে কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ডের আত্ম সমালোচনা করে শুক্রবার (৯ এপ্রিল) জুম্মার নামাজের বয়ানে কথা গুলো বলছিলেন ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল। তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

হেফাজতের হরতালে নারায়ণগঞ্জে সহিংসতার দৃশ্য মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, আল্লাহ পাক বলে গেছেন, ইসলামে অনেক গুলো দল হবে। কিন্তু কেয়ামত পর্যন্ত একটি দল হকের উপরে থাকবে। সেই দলটাই আমি মনে কওমী অঙ্গণ। যেহেতু আমরা সহি এবং হকের উপরে আছি। তাই বাকি ৮-১০টা দল, বুঝে-শুনে, চিন্তা করে এই হকের উপর থাকা কওমী অঙ্গণকে গায়েল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। আমাদের কুলশিত বানিয়ে সমাজের কাছে, মানুষের কাছে অনাস্থার দলে পরিনত করা তাদের টার্গেট। আজকে বিভিন্ন অবস্থা আমরা দেখছি, ওমুক স্থানে গাড়ি ভাঙচুর, উমুক স্থানে আগুন। এ গুলো কারা করছে? এ ঘটনার মধ্যে ২ দল আছে। একটি হলো আমাদের বিরুদ্ধে যারা মাঠে কাজ করে। অন্যটি আমাদের মধ্যে অতি উৎসাহিত কিছু মানুষ। যারা আন্দোলন বুঝে না। কিন্তু আফসোস হলো, সেই ষড়যন্ত্রের গভীরতা বুঝতে আমরা ভুল করছি। না বুঝার ফলে সেই ভুলের মাশুল এখন আমাদের দিতে হচ্ছে।

হেফাজতের হরতালে নারায়ণগঞ্জে সহিংসতার দৃশ্য মাওলানা আব্দুল আউয়াল আরও বলেন, আমাদের কোন দাবী যদি সরকার থেকে আদায় করতে হয়। তাহলে সেই দাবী আদায় করার বিভিন্ন পথ আমাদের সামনে ছিল। সেই ভাবে আমরা সরকারকে বাধ্য করতে পারতাম। আর না মানলেও আমাদের বুঝান, এই কারণে দাবী আমরা মানতে পারি নাই। গত রমজান মাসে যখন করোনার কারণে সব কিছু বন্ধ ছিল। তখনও কিন্তু সরকার আমাদের দাবীর ফলে হেফজখানা গুলো চালু করে দিয়েছিলেন, ঈদের পরেও আমাদের সাথে সর্ম্পক থাকার ফলে কওমী মাদ্রাসার গুলোও চালু করে দিয়ে ছিলেন। কওমী অঙ্গণ থেকে সম্প্রতি এই সমস্ত ভাঙচুর করার ফলে দেশের মানুষের সম্পদ নষ্ট হয়েছে। আমাদের প্রতি ক্ষোভ থেকে এখন আবার কওমী মাদ্রাসা গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করোনা উসিলা মাত্র।

হেফাজতের হরতালে নারায়ণগঞ্জে সহিংসতার দৃশ্য কোরআন শরিফের ৩টি আয়াত উপস্থাপন করে মাওলানা আব্দুল আওয়াল শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, রাগ কমিয়ে মাদ্রাসা গুলো খোলে দেন। আর যারা অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনুন। সকলকে এক পাল্লায় নিয়ে এসে শাস্তি দিবেন। তাহলে এটা অবশ্যই জুলুম হবে।
এসময় মাওলানা আব্দুল আওয়াল বলেন, অনেকে আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন। কিন্তু আমি আপনাদের কথায় চলবো না। আমাকে আল্লাহ বিবেক দিয়েছেন, বুদ্ধি দিয়েছেন। কোরআন হাদিস গবেষণা করার যতটুকু যোগ্যতা দিয়েছেন, আমি সেই টুকু গবেষণা করেই সামনে বাড়বো।