সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের উপস্থিতিতে দোকান ভাঙচুরঃ নারীকে পেটানোর অভিযোগ

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪ডট কমঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দোকান  ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা দোকানগুলো ভাংচুর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮ টার সময় সিদ্ধিরগঞ্জের নয়া আটি মুক্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাদেরকে বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা এক নারীকে পেটানো এবং পুলিশ তার ভাইয়ের ছেলের সাথে অপ্রীতিকর আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় রাজিয়া সুলতানা (৩৩) নামের একজন ভুক্তভোগী নারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় তাদের বিরুদ্ধে  একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, নরুল ইসলাম (৫০), সাইফুল ইসলাম (৪৩), লিটন (৪৩), শরীফ (৩৬) ও সেলিম (৫৩)।
রাজিয়া বেগম তার অভিযোগপত্রে  উল্লেখ করেন,  জমি কিনে দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন রাজিয়া সুলতানা। তবে গত বছর থেকে হঠাৎ করে রাজিয়া সুলতানার মালিকানাধীন সেই দোকানগুলো নিজের দাবি করেন নুরুল আলম নামে জনৈক ব্যক্তি। গত ২৫ জানুয়ারি থেকে নুরুল আলমের হয়ে এলাকার সাইফুল ইসলাম, মোঃ লিটন ওরফে হাতুড়ি লিটন, রাজিয়া সুলতানা ও দোকানদারদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল বেলা সাইফুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম, মোঃ লিটন ওরফে হাতুড়ি লিটন, মোঃ শরীফ, মোঃ সেলিমসহ  ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল হাতুড়ি, লোহার রড, সাবাল ও লাঠি হাতে নিয়ে দোকানপাট ভেঙ্গে দেয়। এতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানান তিনি। দোকান ভাঙার খবর পেয়ে রাজিয়া সুলতানা ঘটনাস্থলে আসলে তাকে পিটিয়ে আহত করেন অভিযুক্তরা।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক এস আই হানিফ এ সময় ঘটাস্থলে ঠায় দাড়িয়ে থেকে সন্ত্রাসীদের সহযোগীতা করেন। এসময় সন্ত্রাসীদের এহেন কর্মকন্ডের প্রতিবাদ করলে রাজিয়া সুলতানার ভাইয়ের ছেলের সাথে অপ্রীতিকর আচরণ করেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শরীফুল ইসলাম তনয়।
রাজিয়া সুলতানা দোকানপাট ভাঙার প্রতিবাদ করতে আসলে তার কাছ থেকে অভিযুক্তরা ২লাখ টাকা দাবি করেন বলেও উল্লেখ করা হয় ওই অভিযোগপত্রে।
এ বিষয়ে রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমরা দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে বসবাস করছি। তবে হঠাৎ করে বিবাদীরা আমাদের দোকানপাট তাদের বলে দাবি করে। শুক্রবার কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা আমাদের দোকানগুলো ভেঙ্গে দেয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।