রূপগঞ্জে পৌর নির্বাচনে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২কাউন্সিলর আটক

রূপগঞ্জে পৌর নির্বাচনে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২কাউন্সিলর প্রার্থী আটক

 

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪.কম:  রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভা নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ দুই কাউন্সিলর প্রার্থীকে আটক করেছে।

 

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন এবং রুহুল আমিন ফরাজী পাল্টাপাল্টি দুইটি মামলা করেছেন। এ মামলায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীকেই আটক করে রাতে থানায় রাখা হয়। বুধবার সকালে তাদের নারায়ণগঞ্জ কোর্টে চালান করে দেয়া হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভা নির্বাচনে মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও তারাব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের পূর্ব নির্ধারিত গণসংযোগ করতে তার কর্মী সমর্থকরা বের হন। গণসংযোগকারীরা নোয়াপাড়া ইসলামিয়া মহিলা আলীম মাদরাসা এলাকায় পৌঁছালে প্রতিদ্বন্দ্বী অপর প্রার্থী রুহুল আমিন মিয়ার কর্মী সমর্থকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গণসংযোগে বাধা প্রদান করে।

 

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে রুহুল আমিন মিয়ার চাচা শ্বশুরের মালিকানাধীন পার্শ্ববর্তী আবির টেক্সটাইলে মিলের শ্রমিকরা দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আনোয়ার হোসেনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা আশপাশের এলাকাতেও তাণ্ডব চালায়।

 

এ সময় একটি টিনসেড ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে টেক্সটাইল শ্রমিক মুজিবুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

 

এদিকে ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ‘গ’ সার্কেল মাহিন ফরাজী, নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার ও তারাব পৌর নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার মতিয়ুর রহমান, রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফিফা খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, তার পূর্ব নির্ধারিত গণসংযোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রুহুল আমিনের সন্ত্রাসীরা সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।

 

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রুহুল আমিন মিয়া বলেন, আমার নির্বাচনী গণসংযোগে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। নির্বাচনী মাঠে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় তারা এ হামলা চালিয়েছে।

 

জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমান জানান, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যারা এ অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
কপিরাইট © ২০২০ | প্রেসবাংলাটুয়েন্টিফোরডটকম
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x