শিশু আরাফাত হত্যা: ২ প্রধান আসামির ৪ দিনের রিমান্ড

বন্দর প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪.কম : বন্দরে শিশু আরাফাত হত্যা মামলা নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)তে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামি রিপন আদালতে আত্মসমর্পনের পর গতকাল বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফারজানা ফেরদৌস ৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আসামি- বাদি পক্ষের আইনজীবিদের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আসামি রিপনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মিল্টন মিয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করে আসামি রিপন। আত্মসমর্পণের পর ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারি অফিসার এসআই সিরাজদৌল্লাহ।
এসআই সিরাজদৌল্লাহ জানান, মামলা হওয়ার ৩ দিন পর আসামি রিপন নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে আত্মসমর্পণ করে। গতকাল বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফারজানা ফেরদৌসের আদালতে শুনানি শেষে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার স্যার শিশু আরাফাত হত্যা মামলাটি নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)তে হস্তান্তর করেছেন। ডিপি পুলিশের ইন্সপেক্টর আতুল স্যারকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি রিমান্ডের আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
গ্রামবাসী সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার মদনপুর ইউপির সাবেক সদস্য লাউসার গ্রামের রফিকুল ইসলাম মনা’র ছেলে স্কুলছাত্র আরাফাত(১১) কে গত ১৫ ডিসেম্বর রাত ৯ টার দিকে বিজয় দিবস কনসার্ট নিয়ে যায় একই গ্রামের মো. ইসলাম মিয়ার ছেলে মো. রিপন মিয়া। ওই রাতেই বাড়ির পাশে পুরাতন স্কুল ভবনে নিয়ে আরাফাতকে প্রথমে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়। পরে এসে গলাটিপে আরাফাতের মৃত্যু নিশ্চিত করে পুকুরে লাশ ফেলে দিয়ে খুনি নিজেই পরিবারের সঙ্গে আরাফাতকে খোঁজে। সন্ধান পেতে দুই দিন বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ মাইকিং করে খুনি রিপন। পুকুরে লাশ ফেলে দেয়ার ৩ দিন পর লাশ ভেঁসে ওঠে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ময়না তদন্ত শেষে জানাযা অংশ নেয় খুনি রিপন। জানাযায় অংশ নেয়া এক/দেড় হাজার মানুষ খুনিদের বিচারের দাবি করেন। ভয়ে জানাযা শেষে খুনি মো. রিপন মিয়া (২৫) ও তার পরিবার পালিয়ে যায় । রিপন পালিয়ে যাওয়ার পর হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাকে প্রধান আসামি এবং রাব্বিসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত আরাফাতের পরিবার। নৃশংশভাবে হত্যা করে নির্ভয়ে গ্রামে চলাফেরা করায় হতভম্ব লাউসার গ্রামসহ উপজেলাবাসী।











