ফতুল্লায় প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু!

ফতুল্লা প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪.কম: রাত আনুমানিক এগারোটা রাতে খাবার খেয়ে পরিবারের সকলেই ঘুমিয়ে পড়ে। ডাইনিং রুমের লাইট জ্বালানো দেখে, হঠাৎই ঘুম ভেঙ্গে যায় পরিবারের ছোট মেয়ের। ডাইনীং রুমের লাইট নিভাতে এসে মেয়ে দেখতে পায়, বাবা পড়ে আছে বাথরুমে। সামনে যেতেই চিৎকার দিয়ে মা ও ছোট ভাইকে ডাক দেয় ছোট মেয়ে।
এমনই একটি ঘটনা ২৫ আগস্ট ( মঙ্গলবার ) ঘটেছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে ফতুল্লায় প্রবাসী জামালের মেয়ে।
ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ফতুল্লা থানার দাপাইদ্রাকপুর এলাকার রেইনবো মোড় এলাকার প্রবাসী জামালের।
বাথরুমে নিথড় দেহ পরে থাকতে দেখে ছেলে ও মা ডাক দেয় পাশ্ববর্তী প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের। সকলে চলে আসলে শলা পরামর্শে লাশ দাফন প্রক্রিয়া যখন প্রায় সম্পন্ন, তখনই এলাকার একজনের সংবাদে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ। পুলিশ গিয়ে ঘটনা যা শুনতে পায়, তার সাথে বাস্তবের কোন মিল খুঁজে পায় নি। তাই আটক করে রাতে বাসায় উপস্থিত থাকা মৃত জামালের স্ত্রী শারমীন আক্তার(৪০), তার ছোট মেয়ে বিবাহিত সুমাইয়া(২০) ও ছেলে ডালিমকে(১৭)।
ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। একইসাথে জামালের লাশকে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে(ভিক্টোরিয়া) পাঠানো হয়েছে।
এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, সকালেই আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং জামালের শরীর দেখেছি। জামালের মাথায় বেশ কয়েকটি ক্ষত চিহ্ন দেখা গিয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, জামালের স্ত্রী, তার ছোট মেয়ে এবং তার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জামালকে হত্যা করা হয়েছে। কেননা, তাদের ঘরের মধ্যে জামাল ব্যতীত ৩ জনই ছিলেন এবং ঘরের মেইন গেইট বন্ধই ছিল।
ঘটনার পর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে(ভিক্টোরিয়া) জামালের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে আসা হয়। সেখানে গিয়ে ময়নাতদন্তকারীদের কাছ থেকে জানা যায়, মাথায় ছোট-বড় প্রায় ৮ টি ২ ইঞ্চির ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। একইসাথে কোমড়ে লাল দাগ রয়েছে। ময়নাতদন্তকারীরাও ধারণা করছে এটি হত্যা।











