সেই ৪ জন নিখোঁজের জট খুলল!

 

নগর প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪ডটকম: অবশেষে রহস্যের জট খুলেছে নগরীতে আলোচিত ঘটনা একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজের ঘটনাটি। ইতোমধ্যে বাবা ও ২ সন্তানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকী একজনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। তাকেও অচিরেই উদ্ধার করতে পারবে পুলিশ আশা প্রকাশ করেছে।

 

প্রথমে স্ত্রী এরপর দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে নগরীতে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে বেশ হইচই ফেলে দেয়। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী নিখোঁজের পরে স্বামীও দুই সন্তান নিয়ে আত্মগোপন করে। মেয়ে ও মেয়ে জামাইয়ের সন্ধান না পেয়ে ঘটনার ৭ দিন নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি জিডি করেন নিঁেখাজ তোবারকে শাশুড়ি। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

 

তবে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে শুধুমাত্র পারিবারিক কলহের কারণেই ঘটেছে এমন ঘটনা।

 

পুলিশ জানায়, ফুটপাতের পোষাক বিক্রেতা তোবারক হোসেন নগরীর চাষাড়া বাগে জান্নাত এলাকায় সিরাজুল ইসলামের নিচতলায় স্ত্রী মুক্তা বেগম ও দুই কন্যা সন্তান ফারিয়া (৯) ও ফাহমিদাকে (৬) নিয়ে ভাড়া থাকতেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রথমে মুক্তা বেগম একই বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে দুই সন্তান নিয়ে তোবারকও আত্মগোপনে যান। এদিকে মেয়ে ও মেয়ে জামাতার ৭দিনেও কোন খোঁজ না পেয়ে পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে জানান তোবারকে শাশুড়ী।

 

পুলিশ জানায়, মায়ের কাছে যাচ্ছে বলে বাড়ি থেকে বের হলেও মুক্তা সেখানে যাননি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি পরকীয়া সন্দেহ করে রাগে-অভিমানে তোবারক হোসেনও দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর মিরপুরে খালার বাড়িতে উঠেন। পরে তিনিও মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।

 

পরে পুলিশ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তোবারক হোসেন ও তার দুই স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ফারিয়া ও ফাহমিদাকে রাজধানীর মিরপুরে তোবারকের খালার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। তোবারককে পুলিশের হেফাজতে ও দুই বোনকে তাদের নানীর কাছে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে প্রযুক্তির ব্যবহার করে পুলিশ মুক্তার অবস্থানও সনাক্ত করেছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রামে আছে। তাকেও পুলিশ হেফাজতে নেয়া হবে।

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, নিখোঁজ ৪ জনকেই উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানার পর তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।