সোনারগাঁওয়ে সংঘর্ষ, রাবার বুলেট ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ আহত ৫

সোনারগাঁও সংবাদদাতা, প্রেসবাংলা২৪ডটকম : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে টিপরদী এলাকায় অবস্থিত চৈতি কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে স্থানীয় এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে নিরাপত্তাকর্মীরা স্থানীয়দের গ্রামবাসীর উপর রাবার বুলেট ছুড়লে ৫ জন আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।
জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে উপজেলার টিপরদী এলাকার চৈতি কম্পোজিট লিমিটেডের মালিক আবুল কালামের লোকজন শুক্রবার সকালে বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছোট শিলমান্দি এলাকার একটি বিরোধপূর্ন জমিতে দেয়াল দিয়ে দখল করার চেষ্টা করে। এসময় টিপরদী এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে শাকিল তার লোকজন কোম্পানির লোকজনকে বাঁধা দেয়। এসময় চৈতি কম্পোজিটের দেয়া দেয়াল ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে। এতে চৈতি কম্পোজিটের নিরাপত্তাকর্মীরা বাঁধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় চৈতি কম্পোাজিটের নিরাপত্তাকর্মীদের ছোড়া রাবার বুলেটের আঘাতে শাকিল, তানজিল, মিজুসহ ৫ জন আহত হয়।। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে চৈতির নিরাপত্তা কর্মীরা পুলিশের সামনে রাবার বুলেট ছুড়ে স্থানীয়দের ধাওয়া করে। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের ইট পাটকেল ছুড়ে পাল্টা ধাওয়া দেয়। উভয় পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠ সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
আহত শাকিল রানা জানান, পৈত্রিক বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখল করে প্রাচীর নির্মাণের কাজ করতে যায় চৈতি কম্পোজিটের লোকজন। এ সময় আমিসহ আমার আত্মীয় স্বজন নির্মাণ কাজে বাঁধা দিলে তারা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখে। পরে চৈতী গ্রুপের লোকজন সোনারগাঁ থানা পুলিশের উপস্থিতিতে পুনরায় নির্মাণ কাজ আবারো শুরু করে। এসময় আমি ও আমার লোকজন ফের বাঁধা দিতে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতেই চৈতী কম্পোজিটের মালিক আবুল কালামের লোকজন আমাদের উপর গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে । চৈতি কম্পোজিটের এজিএম মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের জমিতে গত দুই বছর আগে করা দেয়াল কে বা করা সকাল বেলা ভাঙ্গতে আসে। এ সময় আমাদের ফ্যাক্টরীর লোকজন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। এতে তারা বাঁধা না মানলে পুলিশ তাদের উপর রাবার বুলেট ছুঁড়ে। এতে আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরা জড়িত নয়।
সোনারগাঁও থানার অফিসার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, দু’পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ দু’রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।











