প্রেসবাংলা ২৪. কম : বাংলাদেশ সবার, এ দেশে সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশি, এটাই আমাদের পরিচয়। আমরা একই সঙ্গে বড় হয়েছি, একই ঘাটের পানি খেয়েছি। তাই একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে থাকব।
নারায়ণগঞ্জের হিন্দু সম্প্রদায়ের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের অবিচার হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সরকার মিলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সম্মেলনকক্ষে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নাসিকের উদ্যোগে নগরীর ৬৮টি পূজামণ্ডপে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “এবারের দুর্গাপূজার গুরুত্ব অনেক বেশি। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এবারই প্রথম দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অতীতে যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে, এবার যেন তার চেয়েও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে বিএনপি, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের অংশীদার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পাশে থাকবেন।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে নাসিক প্রশাসক বলেন, একটি গোষ্ঠী সব সময় দেশের বদনাম করার চেষ্টা করে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে নির্মিত প্রতিমা ও এর অলংকারের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তবে ক্যামেরার আওতায় পুরো মণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “চোরের কোনো ধর্ম নেই। সুযোগ পেলেই চুরি করতে পারে। প্রতিমার অলংকার ও কাপড়চোপড় চুরির মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। নারায়ণগঞ্জে এমন কোনো ঘটনা ঘটুক, যা নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয় আমরা তা চাই না।”
দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসন, বিএনপি, শরিক দল, অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের সহযোগিতা থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক এড. সরকার হুমায়ূন কবির, সাবেক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজা বিভা, সাবেক নারী কাউন্সিলর দিলারা মাসুদ ময়না, বিশিষ্ট শিল্পপতি সরোজ কুমার সাহা, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শিখণ সরকার শিপন, সহসভাপতি তিলোত্তমা দাস, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিষ্ণুপদক কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাস, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির সভাপতি শিশির ঘোষ অমর, বন্দর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ।