
প্রেসবাংলা ২৪. কম: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এলাকায় তীব্র যানজট নিরসন এবং বৈধ পরিবহন ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষায় দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল লাইসেন্স প্লেট বিতরণের দাবি জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন রিকশা ও মিশুক মালিক ঐক্য সমবায় সমিতি লিমিটেড। গত রবিবার (৭ জুন, ২০২৬) নগর ভবনে অনুষ্ঠিত লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ সংক্রান্ত একটি সভার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ জুন সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস অভিযোগ করেন, আমরা প্রায় ১৫০ বছর যাবৎ রিকশা ও মিশুক ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু বর্তমানে আমাদের তিলে তিলে গড়া এই ক্ষুদ্র ব্যবসা ধ্বংসের পায়তারা চলছে। সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত লাইসেন্স অন্য অটো গাড়িতে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়াসহ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা আজ চরম ক্ষতিগ্রস্ত।
লিখিত বক্তব্যে নাসিকের লাইসেন্স ও রাজস্বের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। ১৮৭৬ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর থেকে তৎকালীন কদমরসুল ও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভাসহ বর্তমানে সর্বমোট ১৫ হাজার ৮৫১টি বৈধ লাইসেন্স সচল রয়েছে।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ হাজার ৯৪০টি মিশুক লাইসেন্স নবায়ন বাবদ মোট ৯ কোটি ১৫ লক্ষ ১৩ হাজার ১০০ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। অথচ নাসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ মইনুল ইসলাম ৯,৭৪০টি লাইসেন্সের বিপরীতে ৮ কোটি ১৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ১০০ টাকা আদায়ের কথা বলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, এত বিশাল পরিমাণ রাজস্ব দেওয়ার পরও জালের ভিড়ে বৈধ লাইসেন্সধারীরা আজ কোণঠাসা।
যানজট নিরসন ও জালিয়াতি রোধে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের আদলে ৫টি সিকিউরিটি কোড সম্বলিত আধুনিক ডিজিটাল লাইসেন্স প্লেট চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল মালিক সমিতি। তৎকালীন প্রশাসক এইচ এম কামরুজ্জামান এই প্রস্তাবের সত্যতা যাচাই করে প্লেট তৈরির নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ মার্চ, ২০২৬ তারিখে এই ডিজিটাল প্লেট তৈরি হয়ে সিটি কর্পোরেশনের স্টোর রুমে জমা হয়ে আছে। কিন্তু গত ৪ মাস ধরে নানা তালবাহানায় এই লাইসেন্স নবায়ন ও প্লেট বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ১টি লাইসেন্সে ১টি গাড়ি চললে শহরের যানজট মুহূর্তেই কমে আসবে। বর্তমানে শহরে প্রায় ১ লক্ষের ওপর অবৈধ গাড়ি চলে। ডিজিটাল প্লেট চালু হলে বৈধ ১৫,৮৫১টি গাড়ি ছাড়া বাকি প্রায় ৮৪ হাজার অবৈধ গাড়ি শহরে ঢুকতে পারবে না।"
গত ৭ জুনের মনিটরিং সভায় 'একটি আইডিতে একটি লাইসেন্স' দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসকের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সমিতি প্রশ্ন তোলে, এগুলো তো নতুন লাইসেন্স নয়, পূর্বের ইস্যুকৃত লাইসেন্স। তবে শহরকে যানজটমুক্ত করতে এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের কাছে ৪টি গঠনমূলক সুপারিশ পেশ করেছে সমিতি: ডিজিটাল প্লেট বিতরণ, স্টোর রুমে পড়ে থাকা আধুনিক ডিজিটাল প্লেট দ্রুত বিতরণ করে নবায়ন ফি নির্ধারণ করা। নতুন ডিজিটাল প্লেট জাল করার চেষ্টা করলে ১ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা। জরিমানা বৃদ্ধি: লাইসেন্সবিহীন অবৈধ গাড়ি শহরে আটক হলে বর্তমান জরিমানা ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যত্রতত্র পার্কিং এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানোর মতো অপরাধের জন্য বৈধ-অবৈধ সকল গাড়ির ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন রিক্সা ও মিশুক মালিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি শফি মাদবর, আইয়ুব খান মুন্নু, মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মামুন চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক সোহেল মিয়া, কোষাধ্যক্ষ সুমন মিয়া, সদস্য মোঃ শহীদ, ইসলাম উদ্দিন, মোহাম্মদ মারুফ সহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।