আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা

প্রেসবাংলা ২৪. কম: ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। রাত ১২টা ১ মিনিটে চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে তিনি শ্রদ্ধা জানান।

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ছিল আবেগঘন ও গম্ভীর পরিবেশ।জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কর্মসূচি।নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।এ সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষও নীরবতা পালন করেন।
পরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।দেশ,জাতি ও বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এরপর জেলা প্রশাসনের জেলা পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ একে একে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: আলমগীর হোসাইন সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে।

এ সময় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি-এর থিয়েটার হলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সকাল ১১টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলা ভাষা ও মাতৃভাষার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেছেন, প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ভাষা আছে। সেই ভাষায় কথা বলা, চিন্তা করা ও কাজ করার অধিকার রয়েছে। এ অধিকার কেড়ে নিতে চাইলেই প্রতিবাদ শুরু হয়। বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে টিকিয়ে রাখতে যে সংগ্রাম করতে হয়েছে, বিশ্বের অনেক ভাষার ক্ষেত্রে তেমনটা করতে হয়নি। এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করেছে এবং ২০০০ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে।

ডিসি মো: রায়হান কবির বলেন, বাংলা ভাষা ও মাতৃভাষার সক্রিয় চর্চা নতুন করে ভাবতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্র উন্নত করতে হলে শৃঙ্খলা এবং ভাষার সৌন্দর্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। যাদের ব্যক্তিত্বে সৌন্দর্য থাকে, তাদের সমাজ ও রাষ্ট্রেও সৌন্দর্য প্রতিফলিত হয়—তারাই শেষ পর্যন্ত উন্নত হয়।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ভাষা মানুষের পারিবারিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অংশ। যার প্রাণ আছে, তার ভাষা আছে। ভাষার ওপর আক্রমণ হলে মানুষ প্রতিবাদ করে। ১৯৫২ সালে আমাদের ওপর জোর করে একটি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সে সময় বাংলা ভাষাভাষীরা তা মেনে নেয়নি। বিশেষ করে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ মিছিল ও নানা কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ২১ ফেব্রুয়ারি গুলিবর্ষণে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের রক্তের বিনিময়েই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রামের পথ তৈরি হয় এবং মাতৃভাষার গৌরব অর্জিত হয়।সর্বশেষে পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন, ইসলামী আন্দোলন মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, গণঅধিকার পরিষদ জেলার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।