রূপগঞ্জে ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

রূপগঞ্জে ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪.কম: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও বন্দর এলাকা হতে  পণ্যবাহী গাড়ি ডাকাতিকালে ডাকাতি কার্যে ব্যবহৃত বাস ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

র‌্যাব জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও, রুপগঞ্জ ও আড়াইহাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, ভূলতা, ঢাকা-সিলেট ও আড়াইহাজার-নরসিংদী মহাসড়কে বেশ কয়েকটি
চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটে। যার ফলে মহাসড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে এ সকল ডাকাত দলের প্রধান টার্গেট পণ্যবাহী যানবাহন হওয়ায় পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত চালকদের মধ্যে এক ধরণের ভীতিকর অবস্থা তৈরি করে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কে ডাকাতির বিষয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে বিভিন্ন তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলশ্রুতিতে র‌্যাব মহাসড়কে ডাকাতির সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ ও বন্দর থানা এলাকার মহাসড়ক হতে ডাকাতির সময় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সরদার (১) মূসা আলী (৪০), পিতা- আম্বর আলী, থানা- সোনারগাঁ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ ও তার সহযোগী যথাক্রমে; (২) নাঈম মিয়া (২৪), পিতা-মোঃ ফারুক, থানা- রুপগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, (৩) শামিম (৩৫), পিতা- চাঁন মিয়া, থানা- শিবপুর, জেলা- নরসিংদী, (৪) রনি (২৬), পিতা- মৃত সৈকত, থানা+জেলা- নরসিংদী, (৫) আবু সুফিয়ান (২০), পিতা- মৃত সবুজ আলী, থানা- রুপগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, (৬) মামুন (২৪), পিতা- বিল্লাল, থানা- রুপগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জদের গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা হয় ২টি চাপাতি, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি ছোরা ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি বাস। উদ্ধার করা হয় ডাকাতির শিকার ২জন ভিকটিমসহ পণ্যবাহী পিকআপ।

র‌্যাব আরোও জানায়, অভিযানের সময় ২ জন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কথা বার্তায় অসংলগ্ন আচরণ প্রকাশ পাওয়ায় তাদেরকে তল্লাশী করলে তাদের নিকট হতে ১টি চাপাতি ও ১টি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে,১০/১২ জনের সংঘবদ্ধ এই ডাকাত চক্রটি বেশ কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার এলাকায় বিভিন্ন মহাসড়কে নিয়মিত ভাবে ডাকাতি করে আসছে। তারা পেশায় কেউ গার্মেন্টসকর্মী, ড্রাইভার, হেলপার আবার কেউ রাজমিস্ত্রী ও কাপড়ের দোকানের কাটিং মাস্টার। দিনে নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকলেও বিভিন্ন সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে দুর্ধর্ষ ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে থাকে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, এই চক্রটি মূলত ৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ডাকাতি সংঘটন করে এবং ডাকাতির কাজে একটি বাস ব্যবহার করে। গ্রেফতারকৃত মূসার নির্দেশেপ্রথম গ্রুপটি ডাকাতির জন্য বিভিন্ন গার্মেন্টস এর পণ্যবাহী ট্রাক ও মহাসড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী যানবাহন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ডাকাতির জন্য সম্ভ্যাব্য স্থান নির্ধারণ করে। এই দলের সদস্যরা পেশায় গার্মেন্টস কর্মী, ড্রাইভার, হেলপার আবার কেউ রাজমিস্ত্রী ও কাপড়ের দোকানের কাটিং মাস্টার। দ্বিতীয় দলটি বাস নিয়ে মহাসড়কে সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নিয়ে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে।তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ডাকাতির জন্য টার্গেটকৃতপণ্যবাহী যানবাহনটির পিছু নেয়। পরবর্তীতে সুবিধাজনক স্থানে টার্গেট করা পণ্যবাহী গাড়ীটিকে বাস দ্বারাগতিরোধ করে এবং দ্রুত পণ্যবাহী গাড়ীর চালক ও হেলপারকে এলোপাথারি মারপিট করে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে বাসে তুলে নেয়।পরবর্তীতে পণ্যবাহী গাড়ীর চালক ও হেলপারকে জিম্মি করে বাসে নিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যায় ও তাদের মারপিট করে মুক্তিপণ দাবী করে এবং ডাকাতি শেষে পরবর্তীতে তাদের হাত-পা ও চোখ-মুখ বাধাঁ অবস্থায় মহাসড়কের নির্জন স্থানে ফেলে দেয়। তৃতীয় দলটির নেতৃত্বে থাকা ডাকাত দলের প্রধান মূসাডাকাতিকৃত পণ্যবাহী গাড়ীটি চালিয়ে ডাকাতিকৃত পণ্য বিক্রি করার জন্য পূর্ব নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায় এবং মালামাল আনলোড করে।এছাড়াও, ডাকাত দলটি পণ্যবাহী গাড়িটি সুবিধাজনক স্থানে বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করে অথবা ব্যর্থ হলে পরিত্যাক্ত অবস্থায় কোন নির্জন স্থানে ফেলে যায়। বিগত ০১ বছর ধরে যুব কল্যাণ এক্সপ্রেস লিঃ এর বাসটি দিয়ে তারা বেশ কয়েকটি ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে। পূর্বে তারা অন্যান্য বাস অথবা পিকআপ দিয়ে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করত।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com