জানে আলম বিপ্লবের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

প্রেসবাংলা ২৪. কম: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লার আওয়ামী লীগ নেতা জানে আলম বিপ্লবের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মিজানুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ি। ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ি বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।
ঘটনার শিকার ব্যবসায়ি মিজানুর রহমান ফতুল্লার তল্লার আজমেরীবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং ওই এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক। আর অভিযুক্ত জানে আলম বিপ্লব ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। এদিকে ঘটনার ২ দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় রহস্যজনক কারণে পুলিশ মামলা নেয়নি। অভিযোগ রয়েছে বিপ্লবের পক্ষে তার শেল্টারদাতারা তদবির চালিয়েছে যাতে মামলা নেয়া না হয়। বিপ্লবের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবসায়ি মিজানুর রহমান নিজেই। তিনি বলেন, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে আজমেরীবাগ এলাকার পঞ্চায়েত কমিটি গঠিত হলে তিনি ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। পঞ্চায়েত কমিটি গঠনের পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব তাকে নানা ভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছিল।
গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি তার বাড়ির অদূরে অবস্থান করা কালীন আওয়ামী লীগ নেতা বিপ্লবসহ ৩০-৪০ জনের একদল সন্ত্রাসী তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। তিনি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে পাশের আজিজুর রহমানের বাড়িতে আশ্রয় নিলে সন্ত্রাসীরা সেখানেও হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে। তার চিৎকার শুনে তার ছেলে ঢাকা সিটি কলেজের এইচএসসি’র শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাকেও বেধড়ক মারধর করে। পরে তিনি উপায় না দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ আসে। তখন সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। বর্তমানে তার ছেলে মুশফিক একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তার পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব দাবী করেন, তিনি এ ধরণের কোন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। প্রকৃত ঘটনা হলো, আজমেরীবাগ এলাকার শহীদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার ১০ শতাংশ জমি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলামের কাছে রেজিষ্ট্রি বায়না করে। ২০১৫ সালে বায়না করার পর শহীদুল ইসলাম গত বছর পর্যন্ত শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৯০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু সম্প্রতি মিজানুর রহমান শহীদুল ইসলামকে প্রলোভন দেখিয়ে সেই জমি কিনে নিতে চাচ্ছে। ঘটনার দিন শফিকুল ইসলামের লোকজন জমিতে দেওয়াল দিতে গেলে মিজানুর রহমান ও তার লোকজন বাধা দেয়। ওই সময় মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তারা আহত হন। এ ঘটনার সঙ্গে বিপ্লব কোন ভাবেই জড়িত নয় বলে দাবি করেন।
বিপ্লবের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মিজানুর রহমানের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমির বিষয়টি আংশিক সত্য। কিন্তু হামলা বিপ্লবের নেতৃত্বেই হয়ে দাবি করে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই কারা হামলায় জড়িত তা জানা যাবে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দীপু বলেন, ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব একজন এসআইকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু হানিফ বলেন, বদির লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ঘটনা তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষ হলেই তিনি প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তবে এ ঘটনায় এখনও মামলা রুজু হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।











