
সিদ্ধিরগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আলিফ জেনারেল হাসপাতালে ভূল চিকিৎসায় ছায়েদ আলী (৪৯) নামে এক ব্যাক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে নিহতের বিচার চেয়ে প্রথমে ভূক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলেও পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে মামলা করতে অনিহা প্রকাশ করেন তারা।
ঘটনার দিন রাতেই আলিফ জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার মশিউর রহমানসহ তিন জনকে আটক করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।
গত শুক্রবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৭ টার সময় সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নতুন বাজার আলিফ জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছায়েদ আলী সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুমিল পাড়া এলাকার মো. সাইজুদ্দিনের ছেলে।
নিহতের ছেলে জাহিদ জানান, আমার বাবা হঠাৎ বুকে ব্যাথা অনুভব করলে তাঁকে আমরা আদমজী আলিফ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার মশিউর রহমানকে আমার বাবার বুকে ব্যাথা অনুভব করার কথা জানালে সে তাৎক্ষনিক আমার বাবাকে হাসপাতালের বেডে নিয়ে প্রথমে সেলাইন পুশ করে। তার কিছুক্ষন পর সেলাইন চলাকালীন সময় ডাক্তার মশিউর ওই সেলাইনের সাথে আরো তিনটি ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন পুশ করার সাথে সাথেই আমার বাবার খিচুনি উঠতে শুরু করে। সেখানেই তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার খবর গোপন রেখে ডাক্তার মশিউর রহমান আমার বাবাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও জানান, আমার বাবার মৃত্যুর পর ডাক্তার মশিউর ওই হাসপাতালের তালাবদ্ধ একটি কক্ষে আত্বগোপন করেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতের আত্মীয় স্বজন রাত আটটার দিকে আলিফ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর চড়াও হন। তাঁরা ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যুু হয়েছে অভিযোগ তুলেন। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই হাসপাতালের বেশ কয়েকটি কক্ষের দরজার তালা ভেঙ্গে অভিযুক্ত ডাক্তারকে আটক করেন।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্ত ডাক্তারসহ তিন জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
শনিবার দুপুরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ডাক্তারসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটককৃতদের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ অভিযোগ করবে না বলে জানিয়েছেন। তাই আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কি কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি জানতে চাইলে ওসি জানান এ বিষয়ে আমার জানা নেই। ধারণা করা হচ্ছে দু’পক্ষের মধ্যে কোন মিমাংসা হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ এর আগেও আলিফ জেনারেল হাসপাতালে ভূল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁরা সেবার নামে একের পর এক সাধারণ মানুষকে ভূল চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি অতি দ্রুত যেনো এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাসাপাতালটি বন্ধ না করলে এভাবে একের পর এক মানুষকে চিকিৎসার নামে ভুল চিকিৎসায় জীবন দিতে হবে।