সিদ্ধিরগঞ্জে ফুটপাত বসিয়ে মাসে কোটি টাকা চাদাঁবাজি

সিদ্ধিরগঞ্জে ফুটপাত বসিয়ে মাসে কোটি টাকা চাদাঁবাজি

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪.কম: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ মোড় চিটাগাংরোড হিসাবে পরিচিত। এ মোড়ে হাত বাড়ালেই চাঁদা পায় প্রভাবশালীরা। ক্ষমতার দাপটে এ মোড় থেকে মাসে কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিমরাইলের আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের সামনে স্থাপন করা অবৈধ ফুটপাত, রেন্ট-এ-কার স্টান্ড, শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ড, খানকা মসজিদের সামনে অটো স্টান্ড, আহসান উল্যাহ ও এ রহমান মার্কেটের সামনে লেগুনা স্যান্ড ও হীরাঝিল আবাসিক এলাকা থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করছেন প্রভাবশালীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কস্থ শিমরাইল মোড়ের পাশের অংশে রিক্সা লেন দখল করে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন পুলিশের নাম ভাঙিয়ে রিপন ওরফে ‘মুরগি রিপন’, শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ডের সামনে লোকাল বাস ও দূর পাল্লার বাস থেকে নিজস্ব ক্যাডার দিয়ে আলোচিত ৭ খুন মামলার দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নূর হোসেনের ভাগিনা দেলোয়ার ওরফে ভাগিনা দেলোয়ার, সরকারি যায়গা দখল করে রেন্টে কার ও তার সামনে অবৈধ দোকান বসিয়ে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া রাজু, উত্তর পাশে খানকায়ে জামে মসজিদের সামনে লেগুনা ও অটোরিক্সা থেকে নূর হোসেনের ভাতিজা কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, হীরাঝিল আবাসিক এলাকার একাধিক গলি দখল করে ফুটপাত বসানো মোক্তার হোসেন ও হাবিবুর রহমান চাঁদা তোলেন।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) কর্তৃপক্ষ এবং থানা পুলিশ লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও পরক্ষণেরই আবার ঐ জায়গা পূনরায় দখল করে প্রভাবশালী ওই চাদাঁবাজি সিন্ডিকেটচক্র।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুটপাতের অবৈধ দোকানের মালিকদের পুলিশ তথা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে এসব চাদাঁবাজরা।

অভিযোগ উঠেছে, শিমরাইল থেকে প্রতিদিন পুলিশের নাম করে উত্তোলিত টাকার হার হিসেবে চাদাঁবাজি করা হয় মাস শেষে প্রায় ১ কোটি টাকা। মোটা অংকের এই চাদাঁবাজির টাকার বড় একটি অংশ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যাক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে পৌছে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ
উঠেছে।

এদিকে চাদাঁ উত্তোলনের বিষয়ে জানতে কাউন্সিলর শাহজালালের বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ট্রাক স্ট্যান্ডের চাদাঁ উত্তোলনের বিষয়ে জানতে দেলোয়ার ওরফে ভাগিনা দেলোয়ারের মুঠো ফোনে ফোন করলে দেলোয়ার সম্পূর্ন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান আমি এবং আমার কোনো লোক চাদাঁবাজির সাথে জড়িত নই। ট্রাক টার্মিনাল থেকে ছোট ছোট পিকাপ থেকে ১০ টাকার বেশি নেওয়া হয় না। রাস্তায় বাস থামিয়ে আমার নামে টাকা তোলার অভিযোগ সত্য নয়। আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের সামনে রাস্তা দখল করে অবৈধ দোকানপাট থেকে চাদাঁ

উত্তোলনের বিষয়ে জানতে রিপন ওরফে মুরগী রিপনের মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি ওইসব দোকানপাট থেকে কোনো প্রকার টাকা নেই না। এসব অভিযোগ মিথ্যে বলে রিপন ওই প্রতিবেদককে চায়ের দাওয়াত দিয়ে ফোন কেটে দেয়।

অপরদিকে রেন্টে কার ও তার সামনে অবৈধ ভাবে বসানো দোকান থেকে চাদাঁ উত্তোলনের বিষয়ে জানতে থানা আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া রাজুর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও সে ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, আমার থানা এলাকায় কেউ চাদাঁবাজি করতে পারবে না। পুলিশের নামে কেউ চাদাঁবাজি করলে তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাদাঁবাজি করে তাহলে সাথে সাথে পুলিশকে
জানানোর জন্য বলেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

সাধারণ মানুষের উদ্দ্যেশে ওসি আরো বলেন, চাদাঁবাজি করলে থানায় এসে অভিযোগ দিবেন প্রমাণ পেলে সে যেই হোক না কেনো তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্ল্যেখ্য, গত (৩০ ডিসেম্বর) বুধবার শিমরাইল মোড়ের ফুটপাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করে। তবে পুলিশ স্থান ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরই চাঁদাবাজ রিপন বাহিনী রিক্সা লেনের ঐ জায়গা তার দখলে নিয়ে নেয়। সে থেকে অদ্যবধি পূর্বের ন্যয় রিপন চালিয়ে যাচ্ছে তার চাঁদাবাজী। উচ্ছেদের সময় সওজের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দখলকারীরা এসব দোকান গড়ে তুলে পরিবহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল। সরকারি রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে গড়েতোলা এসব দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।অবৈধ দোকান উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরের দিন ২১ ডিসেম্বর আবারো সরকারি রাস্তা (রিক্সা লেন) দখল করে দোকান বসানো হয়েছে।