নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪.কম: আমরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছি। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা জনগণকে নিয়েই সামনের দিকে পথ চলতে চাই। জনগণ চাইলে ক্ষমতায় আসব না চাইলে ক্ষমতা ছেড়ে দিবো এটা আমার নেত্রীর কথা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অনেক দুর এগিয়ে গেছে। উন্নয়নের অনেক সূচকে আমরা এখন অনেক দেশকে পেছনে ফেলে দিয়েছি। এ ধারাবহিকতা বজায় রেখে আমাদের একসাথে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে। পদের চিন্তা না করে দলের জন্য কাজ করুন।
বুধবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে ফতুল্লা স্টেডিয়াম সংলগ্ন নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে (নম পার্ক) ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথীর বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এসব কথা বলেন।
আব্দুল হাই বলেন, সন্ত্রাস ও দূর্ণীতি, মাদকের বিরুদ্ধে কারো সাথে কোন আপোষ করবো না। আপনারা সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করবেন আমরা আপনাদের সহযোগীতা করব। অপরাধীর সাথে কোন আপোষ করবেন না। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত নারায়ণগঞ্জ উপহার দিবেন এই প্রত্যাশাই আপনাদের কাছে।
তিনি আরোও বলেন, প্রশাসনের অনেক লোকজন অনেক ধরনের অহংকার নিয়ে কথা বলেন, তারা মনে মনে ভাবেন আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় এনেছেন। এটা ভেবে থাকলে ভুল করবেন। আমরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছি। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা জনগণকে নিয়েই সামনের দিকে পথ চলতে চাই। জনগণ চাইলে ক্ষমতায় আসব না চাইলে ক্ষমতা ছেড়ে দিবো এটা আমার নেত্রীর কথা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অনেক দুর এগিয়ে গেছে। উন্নয়নের অনেক সূচকে আমরা এখন অনেক দেশকে পেছনে ফেলে দিয়েছি। এ ধারাবহিকতা বজায় রেখে আমাদের একসাথে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক অফিসার গোপালগঞ্জের সন্তান দাবী করে আওয়ামীলীগের অনেক নেতাদের সাথে খারাপ আচরণও করেন। গোপালগঞ্জের পার্শ¦বর্তী জেলার লোক হলেও গোপালগঞ্জ বলে দাবী করেন। প্রশাসনের অনেকেই নারায়ণগঞ্জে এসে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে এসেছে এমন কথাও বলে বেড়ায়। আপনারা ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেই পারেন। তাই বলে আপনারা কোন নেতাকর্মীর সাথে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করবেন না। আপনারা মনে রাখবেন এটা সরকারের আওয়ামীলীগ না এটা আওয়ামীলীগের সরকার। আপনারা জনগণের সেবক আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। এটা মনে রেখে জনগণের সেবক হয়ে কাজ করবেন। আপনারা আমাদের সহযোগীতা করবেন আমরাও আপনাদের সহযোগীতা করব।
পরিচিতি সভায় ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলীর পরিচালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোঃ জুয়েল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফেল ।
আব্দুল হাই আরো বলেন, আওয়ামীলীগ অনেক বড় দল যার কারনে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সবাইকে খুশি করা সম্ভব হয় না। অনেকে কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত না হওয়ার কারনে মনক্ষূন্ন হয়ে পরেন। এটা আমার দৃষ্টিতে মোটেও উচিত নয়। সবাই আওয়ামীলীগের একটি পরিবারের সদস্য। সবাই মিলেমিশেই কাজ করা উচিৎ। আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে জানতে হবে। যার আদর্শ নিয়ে আমরা সংগ্রাম করছি সেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্যার নেতৃত্বে আমরা টানা ৩ বার ক্ষমতায় আছি। তার পিতাকে যদি আমরা না জানি তার পিতার সংগ্রামী জীবন যদি আমরা না জানি তাহলে কিসের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী হলাম।
যে চক্র আমার নেতাকে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে যে চক্র আমার নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে যে চক্রটি ১৬ই জুন চাষাড়া আওয়ামীলীগের অফিসে বোমা হামলা করে ২২ জনের প্রান কেড়ে নিয়েছে অনেকেই পঙ্গু হয়েছে সে চক্রটি আবারো মাথাচারা দিয়ে উঠার চেষ্টা করেছে। তাদের প্রতিহত করতে আমাদের আওয়ামীলীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান, ওয়ালী মাহমুদ খান, একে এম শহিদুল ইসলাম, খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন, গিয়াস উদ্দিন, আশরাফুল আলম, আব্দুল হাকিম চৌধুরী, মঞ্জুরুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ইসহাক, ফরিদ আহমেদ লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোশরাফ উদ্দিন আহমেদ মাসুম, আব্দুল মান্নান, আইন বিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের রানা, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ইউনুছ দেওয়ান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মতি প্রধান, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এম এ ছাত্তার, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আফজাল উন নূর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল হক খোকন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব আলম মাসুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শফিউল্লাহ শফি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাছিমা আক্তার বিউটি, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির রতন, শ্রম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বেপারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা চৌধুরী, সহ-দপ্তর সম্পাদক রাজিব হোসেন মিঠু, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেহান শরিফ বিন্দু, কোষাধ্যক্ষ জাকির হোসেন মেম্বার প্রমূখ।