
প্রতিবেদক, প্রেসবাংলা২৪.কম: নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুত বাড়াতে যাচ্ছে ইরান। সেই লক্ষ্যে ফোরদো পরমাণু স্থাপনায় ২০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু হয়েছে। ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী রাবিয়ি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির নির্দেশে ফোরদো স্থাপনায় ২০ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফোরদো স্থাপনায় গ্যাস ঢোকানোর প্রস্তুতি সংক্রান্ত কাজ শুরু হয়েছে। আজই ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড বা ইউএফসিক্স এর প্রথম ফলাফল হাতে আসবে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) এ বিষয়ে জানানোসহ সব ধরণের নিয়ম মেনেই এ কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইরানের জাতীয় সংসদে ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান’ নামে যে বিল পাস হয়েছে তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট রুহানি এ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেছেন বলে জানিয়েছেন ইরান সরকারের এক মুখপাত্র।
ইরান এর আগে বলেছে, জাতীয় সংসদে বিল পাস হওয়ার সরকার এবং জাতীয় আণবিক শক্তি সংস্থা এটি বাস্তবায়ন করতে এখন বাধ্য। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা স্বীকার করেছে যে, ইরান একটি চিঠির মাধ্যমে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। আইএইএ বলছে, রাতদিন ২৪ ঘন্টার জন্য সংস্থার পরিদর্শকরা ইরানে অবস্থান করছেন এবং তারা নিয়মিত ফোরদো পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন করেন।
তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের ঘটনাকে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। এখন পর্যন্ত ইউরেনিয়ামের মজুত ১২ গুণের বেশি বৃদ্ধি করেছে ইরান।
আইএইএ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৪৪৩ কেজি। মূলত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়। তবে ইরান সবসময়ই দাবি করে আসছে যে, তারা শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী, ইরানকে ইউরেনিয়ামের মজুতের পরিমাণ ৪ শতাংশের কম রাখতে হবে। দেশটির ৩.৬৭ শতাংশ ইউরেনিয়াম মজুত থাকার কথা থাকলেও এর চেয়ে অনেক বাড়ানো হয়েছে। চুক্তির বাইরে পরমাণুর মজুত বাড়িয়েই চলেছে দেশটি।
বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে। এছাড়া ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প। এসব কারণে ইরান অন্য সময়ে চেয়ে বেশি মাত্রায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইউরেনিয়ামের মজুত বাড়াতে শুরু করে। তবে এখনও পরমাণু চুক্তি নিয়ে আশাবাদী যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া এবং চীন।
২০১৯ সালের পরমাণু চুক্তিতে শর্ত দেয়া হয়েছিল যে, ইরান ৩.৬৭ শতাংশের বেশি বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না, কিন্তু সেই শর্ত তারা লঙ্ঘন করেছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা তখন থেকেই ৪.৫ শতাংশ পর্যন্ত স্থির রয়েছে।
তবে দেশটির শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ হত্যার প্রতিক্রিয়ায় গত মাসে ইরানের পার্লামেন্ট পরমাণু সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা বিষয়ক একটি আইন পাস করে। ওই বিলটিতে বলা হয়েছে হয়েছে যে, ইরানের তেল ও আর্থিক খাতের উপর নিষেধাজ্ঞাগুলো দুই মাসের মধ্যে সহজতর না করলে ইরান সরকার ২০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজ আবারও শুরু করবে।
নাটানজ এবং ফোরদোতে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় জাতিসংঘের পরিদর্শকদের যেন যেতে দেয়া না হয় সে বিষয়ে ওই আইনে আদেশ দেয়া হয়েছে।
গত মাসের শুরুর দিকে শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য ২০ শতাংশ মাত্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ইউরেনিয়ামের উৎপাদন ও মজুত রাখতে পারার বিষয়ে আইন পাস করে ইরানের পার্লামেন্ট।