
প্রতিবেদক, প্রেসবাংলা২৪.কম: ‘জেগে উঠো বাঙ্গালী ৭১-এর চেতনায়’ স্লোগানকে সামনে রেখে নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল অ্যামিউজমেন্ট পার্কে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৭ ডিসেম্বর) বিকালে নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল অ্যামিউজমেন্ট পার্কে ফতুল্লা আওয়ামীলীগের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।
তিনি বলেন , ‘নেলসন ম্যন্ডেলা বলেন, মাহাত্মা গান্ধি বলেন আর শেখ মুজিবুর রহমানই বলেন। এরা হাজার বছরে একজন আসে, একটি জাতিকে মুক্ত করার জন্য। ওই মির্জাফররা আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করতে চায়, কিন্তু তারা আওয়ামীলীগকে বিভক্ত করতে পারবে না। যে খেলা শুরু হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে হয় নাই। এটা সরকার পরিবর্তনের খেলা না, রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার খেলা। ৯ তারিখে শুধু স্বাধীনতার পক্ষের কর্মী থাকবে। ওরা আজকে বলছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য মানি না, কালকে বলবে নারীরা ঘর থেকে বের হতে পাড়বে না, পরশু বলবে একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দেয়া যাবে না, তার পরের দিন বলবে ১৬ই ডিসেম্বরে ৩০ লাখ শহীদদেরকে শ্রদ্ধা দেয়া যাবে না, তারপরে বলবে পহেলা বৈশাখ করা যাবে না, একটার পর একটা আস্তে আস্তে বের করবে ওরা।’
একেএম শামীম ওসমান বলেন, অনেক লোক আছেন যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন কিন্তু রাজনীতি করেন না। শেখ হাসিনাকে ভালোবাসে কিন্তু আমাকে ভালোবাসেন না। তারা যে কেউ হতে পারেন। আমাদের বাসার কাজের লোক, কোন ব্যবসায়ী, অভিনেতা। সমাজের জন্য যারা কিছু করতে চায়, তাদের এগিয়ে আসতে সাহায্য করুন। অনেকে লজ্জায় সামনে আসতে চায় না কিন্তু তারা সমাজের জন্য কিছু করতে চায়। তাদের পাশে দাঁড়ান, তাদের বলেন ‘আমরা আছি তোমার পাশে, তুমি এগিয়ে যাও সমাজের কল্যাণে’। প্রতিটা ওয়ার্ড ভিত্তিক আপনারা পঞ্চায়েত গঠন করেন, আমরা ওই পঞ্চায়েতকে পরিচালনা করবো না ওই পঞ্চায়েত আমাদেরকে পরিচালনা করবে।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে কর্মী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা।
সমাবেশে আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পকিস্তানের হানাদাররা বঙ্গবন্ধুকে কারা অভ্যন্তরে বার বার ষড়যন্ত্র করে হত্যার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাহস পায় নাই। মানুষ লড়াই সংগ্রাম করে বঙ্গবন্ধুকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলো করা? সেই খন্দকার মোস্তাক। যে নিজ দেশের ও নিজ দলের ছিলেন। আমাদের স্বাধীনতার উনপঞ্চাশ বছর চলে গেছে। এই উনপঞ্চাশ বছরে কেনো বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য ভাঙ্গা হলো না। এখন কারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলে, তাদের আমরা চিনি, কিন্তু দলের ভিতরে কাদের উপর খুনি মোস্তাকের প্রেতাত্মা ভর করেছে, তাদের চিহিৃত করতে হবে। ভাস্কর্য তো আরো ছিলো কেনো বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গা হলো? এটাই বোঝার বিষয়। এখন আবার বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
বাবু চন্দন শীল বলেন, লড়াই চলবে, আমরা ওদের শিকর উপরে ফেলবো। সবাই সচেতন থাকবেন, ওদের এজেন্টরা কিন্তু এই মুজিব কোট পরে আমাদের ভিতর ঢুকে পড়েছে। সেই সকল অপশক্তিদের আগে দল থেকে বহিস্কার করতে হবে। শুধু দল থেকেই নয়, বাংলাদেশ থেকেও বিতাড়িত করে আমরা ঘরে ফিরবো।
আর খোকন সাহা বলেছেন, সৌদি আরব, ইন্দনেশিয়া, মলয়েশিয়া, মিশরসহ সারা পৃথিবীতেই ভাস্কর্য রয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশেও অনেক ভাস্কর্য তৈরি হয়েছে। বিএনপির জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্যও তৈরি হয়েছে। তাহলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে এতো সমস্যা কেন? আমরা জানি কোথা থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা জানি, কোথা থেকে এই টাকা আসে, কার মাধ্যমে এই টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়। কোন কোন অফিস থেকে আসে, কার কার বাড়িতে যায়। আমরা সবই জানি। তাদের পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই, শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য কেন, যদি অন্য কারো ভাস্কর্যও ভাঙ্গা হয়, তাহলে হাত কেটে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দিবো।
অনুষ্ঠানে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নাজিমউদ্দিন, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. এস এম ওয়াজেদ আলী খোকন, এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ জেলা তাঁতী লীগের সদস্য সচিব সাবেক ভিপি আলমগীর হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জুয়েল হোসেন, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফাইজুল ইসলাম , জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান সহ প্রমুখ।"