সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে ফুটপাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ রানার বিরুদ্ধে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪.কম: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ের সড়ক দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত অবৈধ দোকান। এতে যানবাহন চলাচল ও মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু এ সকল প্রভাবশালীরা সরকারী সড়কের জায়গা ভাড়া দিয়ে আয় করছে প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা।
এলাকাবসীর অভিযোগ, শিমরাইল মোড় এলাকা এখন স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকার কারণে সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। এসব দোকানপ্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা অগ্রীম নিয়ে দৈনিক ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানায় এলাকাবাসী। বিশেষ করে আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের তথাকথিত মালিক রানা আহমেদ নিজের ও তার চাচা হাবিবুল্লাহর প্রভাব খাটিয়ে মার্কেটের সামনে থেকে চাঁদা তুলছেন বলে জানায় দোকানদাররা। আর চাঁদা তোলার জন্য তাঁর নিয়োগ পাওয়া দুইজন রিপন ও রুহুল এ চাঁদা তুলেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এর আগে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ একাধিকবার অস্থায়ী এ দোকানগুলো উচ্ছেদ করে। তবে প্রভাব খাটিয়ে রানা আহমেদ উচ্ছেদের কিছুদিন পর আবারো মোটা অংকের অগ্রীম টাকা নিয়ে দোকানগুলো বসার ব্যবস্থা করছেন। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। কারন দোকানগুলোর কারনে মানুষ ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে মহাসড়ক দিয়ে। এতে মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।
অনেকের অভিযোগ, তাঁর চাচা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল্লাহর শেল্টার নিয়ে সরকারী জায়গায় এ দোকানগুরো বসানোর ব্যবস্থা করেছেন রানা। স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে ফুটপাথে খোলা আকাশের নীচেও প্রতিদিন দোকান বসছে। প্রতিদিন এসব দোকান থেকে ৩০০-৫০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। রানা আহমেদ তাঁর লোক দিয়ে ফুটপাত থেকে দৈনিক ভিত্তিতে এসব চাঁদা উত্তোলন করেন। ফুটপাতের এসব দোকানের মধ্যে রয়েছে- ফুল, ফল, জুতা, রেডিমেড কাপড়, চায়ের দোকান ও তরিতরকারির দোকানসহ বিভিন্ন দোকান। জানা যায়, মার্কেট মালিক সড়কে দোকান বসিয়ে এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা অগ্রিম ও মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া আদায় করছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রানা আহমেদ বলেন, এই মোড়ের দোকানের সাথে আমি বা মার্কেট কর্তৃপক্ষ জড়িত না। যেই অভিযোগ তোলা হচ্ছে এটি মিথ্যা। তবে এখানে রোডস এন্ড হাইওয়ের সাথে মার্কেটের কিছু জায়গা আছে। সেখানে কয়েকটি গেঞ্জির দোকান মার্কেটের সবাই মিলে ভাড়া দিয়েছে। বাকি যেসব দোকান রয়েছে তার সাথে মার্কেট কর্তৃপক্ষ বা আমি জড়িত না। এখানে পুলিশের যেই টহল টিম আসে তাদের কিছু দিয়ে থাকতে পারে। তবে আমরা কোন টাকা নেই না। যানজট কমানোর পাশাপাশি পথচারীদের নির্বিঘ্নে হাঁটা চলার জন্য ফুটপাথ এবং সরকারী জমিতে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলেও, কথিত প্রভাবশালীদের দৌরাত্মে পুনরায় ফুটপাথ দখল হচ্ছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ব্যাস্ততম শিমরাইল মোড়ে মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত এবং যানজট কমাতে এখনই এগুলো উচ্ছেদ জরুরী হয়ে পড়ছে।











