
সরাইল প্রতিনিধি,প্রেসবাংলা২৪ডটকম: বন্যার পানি ও গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-অরুয়াইল সড়কের চুন্ট ব্রিজ থেকে ভুঁইশ্বর এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে পড়েছে উপজেলার সাথে দুই ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ। এতে দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক লোকজন। এছাড়া এ সড়ক দিয়েই অরুয়াইল-পাকশিমুলের লোকজন ছাড়াও অন্য উপজেলার লোকজনও চলাচল করে থাকেন। সরেজমিনে মঙ্গলবার ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের ভুঁইশ্বর এলাকার তিন জায়গা চুন্টা ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তাটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে সকল ধরণের যানবাহন বন্ধ রয়েছে। আর ডুবে যাওয়া রাস্তার এ অংশটুকু লোকজন নৌকা করে পার হচ্ছে।
অরুয়াইল বাজার ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের মালিক মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই টানা বর্ষণ ও হাওরের ঢেউয়ে সরাইল-অরুয়াইল সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে করে দুর্ভোগে পড়েন উপজেলার অরুয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।
পাকশিমুল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,সরাইল-অরুয়াইল সড়কের চুন্টা ব্রিজ হতে ভুঁইশ্বর এলাকায় তিন জায়গায় প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। সকল ধরণের যানবাহন বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন,এ সড়কের সংস্কার কাজ সঠিকভাবে হয়নি। তাই বর্ষার পানি আসলে সড়কের কয়েকটি অংশ পানিতে ডুবে যায়। এখন জন-দুর্ভোগ ও ভোগান্তি নিরসনে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরি।
অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, প্রতি বছর টানা বর্ষণ ও ঢলে সরাইল-অরুয়াইল সড়কের এই অংশটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। কাজ করার আগে উপজেলা বিভিন্ন সভায় সড়কটি একটু উঁচু করার জন্য আলোচনা করেছি। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, হাওরের জোয়ারে পানি স্রোতে ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে সরাইল-অরুয়াইল সড়কের কয়েকটি অংশ তলিয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি আমি দেখে এসেছি। উপজেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে
জানিয়েছি।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এস এম মোসা বলেন, এ বছর টানা বর্ষণ ও বন্যার পানি স্রোতে সরাইল-অরুয়াইল সড়কের কয়েকটি অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। এটি স্থানীয় এলজিইডিকে বলা হয়েছে, ঐ এলাকার মানুষ উপজেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। বন্যার পরিস্থিতি বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি।