জর্দান প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪ডটকম: প্রবাসে গৃহকর্তার ভয়ঙ্কর নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বাংলাদেশ থেকে জর্দানে যাওয়া রিমি (১৯) নামের এক নারী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জর্দানের আম্মান শহরের আল বাসির হাসপাতালে ফেলে রেখে এসেছেন ওই গৃহকর্তা। এরপর থেকে হাসপাতালের বারান্দায় মৃত্যুর প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন রিমি।
রিমি মুন্সিগঞ্জ জেলার মীকাদিম পৌরসভা এলাকার নয়াদীঘিরপাড় এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।
রিমির বাবা দেলোয়ার হোসেন প্রেসবাংলাকে জানান, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মুন্সিগঞ্জের রিকাবীবাজার রামগোপালপুর এলাকার সুমন নামের এক দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর চাকরি নিয়ে জর্দানে যায়। প্রথম দু’ মাস ভাল চললেও এরপর থেকেই শুরু হয় গৃহকর্তার নানা নির্যাতন। টানা তিনমাস বেতন বন্ধ করে আটকে দেয় ওই গৃহকর্তা। চলতি বছরের জুনের প্রথমদিকে সে আর কাজ করবে না বলে গৃহকর্তাকে জানিয়ে দেয়। এবং তিনমাসের বকেয়া বেতন দাবি করে। এরপরই গৃহকর্তা তাকে বেদম মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে তাকে ফেলে দেয়। একে রিমির বাম পা ভেঙে যায়। এরপর কোন রকম তাকে জর্দানের আম্মান শহরের আল বাসির হাসপাতালে নিয়ে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় গৃহকর্তা। বেসরকারী ওই হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা হলেও বিল পরিশোধ করার মতো টাকা নেই রিমির কাছে। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তাকে হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের স্থানীয় এক রোগীর মাধ্যমে বিষয়টি বাবাকে ফোনে জানায় রিমি।
দেলোয়ার হোসেনও প্রবাসী। তিনি বর্তমানে ব্রুনাই একটি বেসরকারী কোম্পানীতে কর্মরত। সেখান থেকে তিনি দালাল সুমনের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করলেও কোন সদুত্তর পাননি। এমনকি তাকে উল্টো হুমকি দিচ্ছেন সুমন।
https://youtu.be/PWieBHP9mKs
জর্দানে বাংলাদেশস্থ দূতাবাসে এ বিষয় বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও কোন কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।