
প্রতিবেদক, প্রেসবাংলা২৪ডটকম: করোনা পরিস্থিতিতে শামীম ওসমানের পর সোয়া দুই কোটি টাকার সহায়তার ঘোষণা দিলেন নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের এমপি একে এম সেলিম ওসমান।
মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল দুপুর ১২টায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড এর কার্যালয়ে সেলিম ওসমান এ ঘোষণা দেন।
এর আগে ২ এপ্রিল প্রেস ব্রিফিং করে ছোট ভাই শামীম ওসমান খাদ্য ও নগদ সহায়তার জন্য নিজের ব্যক্তিগত তহবিল হতে ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যা ইতিমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে । প্রায় তিন সপ্তাহ পর এসে বড় ভাই সেলিম ওসমান তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ টাকার সহায়তার ঘোষণা দিলেন।
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ২০ হাজার পরিবার সহ নারায়ণগঞ্জে করোনা চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের সহযোগীতার উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের। সেই লক্ষে তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা একটি কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এরআগে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে করোনা পরিস্থিতির ওপর প্রেস ব্রিফিংয়ে, খাদ্য ও নগদ সহায়তার জন্য নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শামীম ওসমান ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করেন।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানা হয়, পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ২০ হাজার পরিবার সহ নারায়ণগঞ্জে করোনা চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের সহযোগীতার উদ্যোগ নিয়েছেন সেলিম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সেলিম ওসমান এ কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছেন।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সেলিম ওসমান বলেছেন, আমি এ কার্যক্রমের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে দীর্ঘ সময় টেলিফোনে বিস্তারিত আলোচনা করছি। আমরা ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে রোজার মাসটিতে ৬০০ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। ২০ হাজার পরিবারকে ৯০০ টাকা করে আগামী ৭দিনের মধ্যে বিকাশ বা নগদ একাউন্টে প্রেরন করা হবে।
অন্যদিকে ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মৃতদের দাহ এবং দাফনের ব্যবস্থা করছেন, সহযোগীতা হিসেবে ১০ লাখ টাকা প্রদান করছি। করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া ডাক্তার নার্সদের থাকা খাওয়া এবং যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে আরো ২০ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করা হবে।
এ কর্মসূচীর আওতায় আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ৬৩ লাখ টাকা। ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ৯৯ লাখ টাকা। উপজেলা পরিষদ এলাকায় ৯ লাখ টাকা। স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মানী ভাতা ২৭ লাখ টাকা। ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের জন্য ১০ লাখ টাকা। ডাক্তার নার্সদের জন্য ২০ লাখ সর্বমোট ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা প্রদান করা হবে।
এর আগে ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলর বৃন্দদের মাধ্যমে এলাকার নিম্ন মধ্য বিত্ত প্রায় ১৩ হাজার মানুষের মাঝে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০ কেজি করে ১ লাখ ৩০ হাজার কেজি চাল বিতরন করা হয়েছে।
উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড এর কার্যালয়ের ওই সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এম এ রশিদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমশেদ আলী ঝন্টু, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান, ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল, ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল আহম্মেদ সাগর, ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন, ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা, ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুল আহম্মেদ, নারী কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নী, মিনুয়ারা বেগম, শিউলি নওশেদ, হোসনে আরা বেগম, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম।"