১০ মাসে রেমিট্যান্সে বেড়েছে ১০ শতাংশ

প্রেসবাংলা২৪ডটকম: প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরও ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে বছর শেষ করতে চলেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্সের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে অর্থাৎ জুলাই-এপ্রিল সময়ে ১ হাজার ৩৩০ কোটি ৩০ লাখ (১৩.৩০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

 

২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ২০৯ কোটি ২৮ লাখ (১২.০৯ বিলিয়ন) ডলার। এ হিসাবে এই দশ মাসে প্রবাসীরা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছর এপ্রিলে পাঠিয়েছিলেন ১৩৩ কোটি ১৩ লাখ ডলার। এ হিসাবে এবছর রেমিট্যান্স বেড়েছে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ। টাকার বিপরীতে ডলারের তেজি ভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক ও ব্যাংকাররা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ খুবই ভালো। প্রতি মাসেই বাড়ছে। প্রবাসীদের বৈধ্য পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তারই ফল পাওয়া যাচ্ছে এখন। অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতেও রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। ২০১৯ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১৫৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল এক মাসের হিসেবে রেকর্ড। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫০ কোটি ৫০ লাখ ডলার; গত বছরের মে মাসে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক রেমিট্যান্সে সুখবর দিয়ে শেষ হয়েছিল ২০১৮ সাল।

 

গত বছরে এক হাজার ৫৫৩ কোটি ৭৮ লাখ (১৫.৫৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ঐ অঙ্ক ছিল ২০১৭ সালের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থনীতির গবেষক জায়েদ বখত বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে অবদান রাখছে রেমিট্যান্স। এভাবে বলা যায়, আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছেন প্রবাসীরা। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে। একদিকে অবৈধ পথে রেমিট্যান্স আসা ঠেকাতে হুন্ডির বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ানোরও কৌশল নিয়েছে। এসবই রেমিট্যান্স বাড়াতে অবদান রাখছে বলে মনে করেন রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত।

 

২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্সের নিম্নগতি সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছিল। হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বাড়ে। খরা কাটিয়ে বাংলাদেশ ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষ করেছিল ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে।

বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

 

এবার আকুর বিল ১.২৪ বিলিয়ন ডলার : আগামী সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার আকুর বিল হয়েছে ১২৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ- এই নয়টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। আকুর দেনা শোধের পর রিজার্ভ কমে আসবে।

 

২.১৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি : মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবারও ৮৪ টাকা ৪৫ পয়সা দরে ১ কোটি ৫০ লাখ (১৫ মিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ২ মে পর্যন্ত (দশ মাসে) সর্বমোট ২১৪ কোটি (২.১৪ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বেশিরভাগই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com