ইমাম যদি বিক্রি হয় টাকায়! কী করবো গিয়াসউদ্দিন কাকায়?

 

রুদ্র প্রকাশ, প্রেসবাংলা২৪ডটকম :

ইমাম যদি বিক্রি হয় টাকায়!

কী করবো গিয়াসউদ্দিন কাকায়?

 

ইমাম শব্দের আভিধানিক অর্থ নেতা। ইসলামে ইমামের মর্যাদা অনেক উচ্চে। যদিও বাপুরা আমি ইসলাম ধর্মের লোক নই। নাম দেখেই বুঝেছেন, আশা করি ইমামরাও বুঝবেন।

 

মূলপর্বে যাবার আগে যে ঘটনার কারণে কলম ধরেছি তা একটু পরিস্কার করি। ফতুল্লার কাশীপুর এলাকায় ‘বায়তুল জান্নাত ‘ নামের একটি মসজিদে গিয়াসউদ্দিন নামের এক নেতা মিম্বরে বসে যে অধর্ম করেছেন, তা দেশময় আলোচিত হয়ে উঠেছে। ঘটনাটি দেশের বড় বড় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ ও প্রচার করেছে। আমিও পড়েছি। বিষয়টি যে অধর্মের ও দাম্ভিকতার বহিঃপ্রকাশ তা বোধ করি এক মাদ্রাসা ছাত্রও বলতে পারবে। কিন্তু ঘটনার পরের দিন ওই মসজিদের ইমাম সাহেব ঘটনার পক্ষ নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্যও দিয়েছেন। কী সাংঘাতিক!

মসজিদগুলোতে যারা শারিরিকভাবে অক্ষম তারা চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করেন।তাছাড়া ক্ষমতাশালী বিত্তবান গরীব সবাই এক কাতারে, সমান। একজন দিনমজুরও যদি প্রথম কাতারে এসে দাঁড়ায় তাকে সরিয়ে দেবার ক্ষমতা ইমামেরও নেই। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। আবার একজন ক্ষমতাশালীকে জোর করে মিম্বরে বসানোর অধিকার ইমামকেও দেয়নি ইসলাম। কিন্তু আলোচ্য মসজিদের ইমাম যে কাজ করেছেন তা নিয়ে কোন মুসলমান প্রতিবাদ করলো না। অথচ ‘ফতোয়া’ দেয়া নিয়ে, এই নিয়ে সেই নিয়ে এক ইমামের গুষ্টি উদ্ধার করেন, ওয়াজ মাহফিলে বিষোদগার করেন।

আমার আরেকটা জায়গায় খটকা লেগেছে। এক সময়ের ‘ডাকাত গেসু’ পবিত্র হজব্রত পালন করে এসেছেন। এলাকার লোকজন ভেবেছিল- এই বুঝি, হারামিটা মানুষ হলো। প্রতি রাতে বাংলা মদ ছেড়ে দিয়ে ইবাদত বন্দেগিতে মনোনিবেশ করবে। অহংকার দম্ভ ছেড়ে দিয়ে সরল-সহজ ইসলামের শান্তির পথে এগুবে। কিছুটা যে হয়নি তা কিন্তু নয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরেন, মসজিদ -মাদ্রাসায় দান খয়রাত করেনও। কিন্তু ঘটনায় বদলে যাওয়া গিয়াসউদ্দিনের দেখা পেলাম না। আমি ভেবেছিলাম, এ ঘটনার পরে গেসুদ্দিন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইবেন। বলবেন, অজ্ঞতা হোক বা পরিস্থিতির কারনে হোক মিম্বরে বসে আমি ভুল করেছি।আমাকে ক্ষমা করুন। ক্ষমা যে ইসলামের আরেকটি সৌন্দর্য গেসুদ্দিন কী তা জানে? কীভাবে জানবে আশেপাশে টাকার বিক্রি হওয়া ইমাম ও চাটুকারদের আনাগোনা। তারা বদলে যাওয়া ইসলামের পথে আসা গেসুদ্দিনকে আরো দাম্ভিক করে তুলল।

 

হায়! ইমাম! ধিক! ইমাম!

তুমি তোমার স্রষ্টাকে এর জবাব দিতে পারবে তো?

 

আরেকটি কথা বায়তুল জান্নাত মানে জান্নাতের ঘর। জান্নাতের মালিক সৃষ্টিকর্তা। এখানে স্রষ্টার আইনই চলবে। ভাতিজা গেসুদ্দি, এই চাটুকাররা কী হাশরে তোমার জবাব দিবে? টাকায় পুষে রাখা ইমাম ও দুই পয়সার চাটুকাররা সেদিন তোমাকে চিনবে? যৌবন থেকে আজ অবধি দুনিয়া চড়াইয়া খাইয়া আইসো।কোথায় বসতে হয়,কোথায় দাঁড়াতে এতটুকুন জ্ঞান নিশ্চয় তোমার আছে!

 

 

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com