২০টি পরিবারকে পথে বসিয়ে দিল প্রতারক মিথিলা

ফতুল্লা প্রতিনিধি, প্রেসবাংলা২৪ডটকম: ২০টি পরিবারকে পথে বসিয়ে দিয়েছে প্রতারক নারী মিথিলা। ফতুল্লার পঞ্চবটির গুলশান রোডের এই দূর্ধর্ষ নারী নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২০টি পরিবারের কাছ থেকে দুই কোটি নিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে। বেশ কয়েকজন টাকা উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নিলেও তাকে বাগে আনতে পারছেন না কেউ।

 

স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, হরিহরপাড়া এলাকার মাঈনউদ্দিনের মেয়ে মিথিলা ফারজানা উচ্চ মাত্রার সুদ ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২০ জনের কাছ থেকে সবমিলিয়ে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এদের মধ্যে আব্দুস সামাদ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রথমে দু’য়েক মাস সুদের টাকা দিলেও পরে শুরু হয় টালবাহানা। পরে মূলধন ফেরত চাইতে গেলে বেরিয়ে আসে এই নারীর আসল চেহারা।

 

শুধু আব্দুস সামাদ-ই নয়, ওই এলাকার বীমাকর্মী শামীমের কাছ থেকে ৮০ হাজার, মিনু বেগমের কাছ থেকে ৪ লাখ, পলির কাছ থেকে ৮০ হাজার, পারুলের কাছ থেকে ৬০ হাজার, মাসুদা আক্তারের কাছ থেকে ৭০ হাজার, বৃষ্টির কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার, নাজমার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ও জহিরের বোনের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মিথিলা ফারজানা|

 

তারা জানিয়েছেন, মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে সিদ্ধহস্ত মিথিলা প্রথমে মিষ্টিকথায় সবাইকে প্রলুব্ধ করে। প্রথম দু’য়েক মাস সুদ দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে। এক পর্যায়ে একজন দু’জন করে করে যখন প্রায় ২৫ জনের অধিক মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হবার পরে পরে কৌশলে গাঁ ঢাকা দেন তিনি।

 

প্রতারণার শিকার কয়েকজন প্রেসবাংলাকে জানান, প্রায় দুই কোটি টাকা দিয়ে মিথিলা ফারজানা গাজীপুরে একটি প্লট কিনে তার উপর বিলাশবহুল ফ্লাট বানাচ্ছেন। এছাড়াও আরো কয়েক জায়গায় তার গোপন বিনিয়োগ রয়েছে।

 

তারা আরও জানান, যে কোন সময় পঞ্চবটির বাড়িটি বিক্রি করে পালাতে পারেন এই প্রতারক নারী। ইতোমধ্যে বাড়ির সব আসবাবপত্র বিক্রি করে দিতে শুরু করেছেন।

 

এ বিষয়ে মিথিলা ফারজানার কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। তিনি বলেন, আমি কারো টাকা মেরে দেই নাই, বাড়িও বিক্রি করি নাই।

 

কিন্তু প্রতারণার শিকার ছয়জন আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছয় নয়, আমি বিশজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি।

 

এক পর্যায়ে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনে কোন পত্রিকার সাংবাদিক, আপনার চেয়ে বড় সাংবাদিকরা আমার আত্মীয়।

 

আবব্দুস সামাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশের এএসআই নুরুল ইসলাম জানান, এলাকায় গিয়ে জানতে পেরেছি আরো কয়েকজন মিথিলার কাছ থেকে টাকা পাবে। তবে সে বলেছে, বাড়ি বিক্রি করে সবার টাকা দিয়ে দিবে।

 

অন্যদিকে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, প্রতারণার শিকার সবাই অভিযোগ করলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com